পোর্ট ব্লেয়ারে সভারকারের মূর্তি উন্মোচনে শাহ-ভাগবত

পোর্ট ব্লেয়ার, ১২ ডিসেম্বর: আজ আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের(Veer Savarkar Statue)হৃদয়ে যেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচিত হল। পোর্ট ব্লেয়ারে এক গৌরবময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
veer-savarkar-statue-inauguration-port-blair-amit-shah-mohan-bhagwat

পোর্ট ব্লেয়ার, ১২ ডিসেম্বর: আজ আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের(Veer Savarkar Statue)হৃদয়ে যেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচিত হল। পোর্ট ব্লেয়ারে এক গৌরবময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত বীর সাভারকরের মূর্তির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন। শুধু একটি মূর্তির প্রতিষ্ঠা নয় এই দিনটি স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমলিন অধ্যায়কে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

উন্মোচনস্থলে দেশাত্মবোধের আবহ যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের মূল অঙ্গন সব জায়গায় ছিল বীর সাভারকরের ছবি, তাঁর সংগ্রামের স্মৃতি, এবং তাঁর অমর বাণী। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক সমাবেশে।

   

বীর সাভারকর এক নাম যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাহস, আত্মসম্মান, দেশভক্তি এবং ত্যাগের অসীম উদাহরণ। কালাপানির কঠিন কারাবাস থেকে শুরু করে স্বাধীনতার আন্দোলনে তাঁর নির্ভীক ভূমিকা সাভারকর ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণার বাতিঘর। তাই তাঁর মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানটিও স্বাভাবিকভাবেই ছিল আবেগে ভরা।

অমিত শাহ বক্তৃতায় বলেন, “আজকের দিন শুধু একটি মূর্তি উন্মোচন নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসকে পুনর্জাগরণ করার দিন। বীর সাভারকর ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে দেশকে জাতীয়তাবাদের নতুন পথ দেখিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের যুবসমাজের কাছে সাভারকর হলেন চিরন্তন অনুপ্রেরণা। তাঁর আদর্শ আমাদের রাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিকে দৃঢ় করেছে।”

আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত জানান, “সাভারকর শুধু একজন বিপ্লবী নন, তিনি চিন্তাবিদ, কবি, দার্শনিক এবং আধুনিক ভারতের স্থপতিদের একজন। জাতীয়তা সম্পর্কে তাঁর তত্ত্ব আজও ভারতের জন্য প্রাসঙ্গিক। এমন একজন মহান আত্মার প্রতি এই শ্রদ্ধা যথার্থ।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের চোখে মুখে ছিল গর্ব আর আবেগের মিশ্রণ। অনেকেই বলেন, আন্দামানের মতো ঐতিহাসিক স্থানে সাভারকরের মূর্তি প্রতিষ্ঠা তাঁর আত্মত্যাগকে আরও অর্থবহ করে তুলল। কারণ এই দ্বীপই তো ছিল ব্রিটিশ নির্যাতনের এক নির্মম প্রতীক, যেখানে সাভারকর কাটিয়েছিলেন জীবনের সেরা দিনগুলো কারাগারের কঠোর অন্ধকারে।

মূর্তি উন্মোচনের পর গান, নাচ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে ভারতীয় সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায়। অনুষ্ঠানের শেষে ধ্বনিত হয় “বন্দে মাতরম” এবং “ভারত মাতা কি জয়” যেন এক সুরে মিলেছে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ।

বীর সাভারকরের মূর্তি শুধু একটুকরো ভাস্কর্য নয় এটি ভারতের ত্যাগ, আত্মসম্মান এবং জাতীয় চেতনার অটুট প্রতীক। আজকের এই দিন তাই ভারতের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশ যে তার প্রকৃত নায়কদের শ্রদ্ধায় ভুলে যায় না এই অনুষ্ঠান সেই বার্তাই আরও একবার দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিল।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google