৫৪৩ অবৈধ মাঝার গুড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড উত্তরাখন্ড গেরুয়া সরকারের

দেরাদুন: দেরাদুনে সরকারি স্কুলের ভিতরে অবৈধভাবে নির্মিত একটি মাজার (illegal mazar)গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরাখণ্ড সরকারের কঠোর অভিযান। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যজুড়ে অবৈধ মাজার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
uttarakhand-illegal-mazar-demolition-pushkar-singh-dhami-543

দেরাদুন: দেরাদুনে সরকারি স্কুলের ভিতরে অবৈধভাবে নির্মিত একটি মাজার (illegal mazar)গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরাখণ্ড সরকারের কঠোর অভিযান। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যজুড়ে অবৈধ মাজার অপসারণের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৪৩-এ। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সম্প্রতি দেরাদুনের একটি সরকারি স্কুল প্রাঙ্গণে অবৈধ মাজারটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের দাবি, ওই মাজারটি অনুমোদনহীনভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং সরকারি জমি দখল করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হরিদ্বার, কাশীপুর, দেরাদুনসহ অনেক এলাকায় অবৈধ মাজার চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ মহিলা বিল তো অছিলা মাত্র, ‘আসল খেলা’ ডিলিমিটেশন! বিস্ফোরক সোনিয়া

সরকারি তথ্য অনুসারে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার একর সরকারি ও বনভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী ধামী বলেছেন, “এটি নতুন উত্তরাখণ্ড। কেউ সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ করতে পারবে না। ‘ল্যান্ড জিহাদ’ বা ‘মাজার জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি।” সরকারের যুক্তি, অনেক মাজারই বছরের পর বছর ধরে সরকারি জমি, স্কুল, হাসপাতাল বা বনাঞ্চলে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

প্রশাসন প্রথমে নোটিশ দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাড়া না পাওয়ায় বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে।এই অভিযান শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগে থেকেই। ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী ধামী স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, অবৈধ মাজার ও মাদ্রাসা সরিয়ে দেওয়া হবে। তারপর থেকে ধাপে ধাপে অভিযান চলছে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ করে প্রশাসনকে সহায়তা করেছে।

দেরাদুনের ডুন স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও এমন অভিযান চলেছে, যা রাজ্যজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অন্যদিকে, এই অভিযান নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। ওয়াকফ বোর্ডসহ বিভিন্ন সংগঠন দাবি করেছে, কিছু মাজার দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে এবং সেগুলো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছে, প্রশাসনকে আরও সংবেদনশীলভাবে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। কেউ কেউ এটিকে সংখ্যালঘু-বিরোধী অভিযান বলেও অভিহিত করেছেন।

তবে সরকার পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছে, আইন সবার জন্য সমান। কোনো ধর্মীয় স্থাপনা সরকারি জমি দখল করে রাখতে পারবে না।রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই অভিযানকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিবেশপ্রেমীরা বলছেন, স্কুল-কলেজের ভিতরে বা সরকারি জমিতে ধর্মীয় স্থাপনা থাকলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং জমির সঠিক ব্যবহার হয় না। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “উত্তরাখণ্ড দেবভূমি।

এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে থাকুক, কিন্তু আইন ভাঙা চলবে না। সরকারি জমি জনসাধারণের জন্য।”বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই অভিযান উত্তরাখণ্ডের ‘নতুন উত্তরাখণ্ড’ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের দাবি, অভিযান চলবে যতদিন না সব অবৈধ দখলমুক্ত হয়। একই সঙ্গে তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, বৈধ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর কোনো ক্ষতি করা হবে না।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.