গেরুয়া রাজ্যে হিন্দু পরিবারকে নৃশংস হত্যা! অভিযুক্ত ইসলামপন্থীদের বাড়ি জ্বালাল জনতা

দেহরাদুন: উত্তরাখণ্ডের পবিত্র দেবভূমিতে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Uttarakhand)। বৈরাগীওয়ালা গ্রামে সরকারি টিউবওয়েলের জলের ছোট্ট বিবাদকে কেন্দ্র করে মুসলিম জনতার একটি দল হিন্দু…

uttarakhand-bjp-leader-killed-village-violence

দেহরাদুন: উত্তরাখণ্ডের পবিত্র দেবভূমিতে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Uttarakhand)। বৈরাগীওয়ালা গ্রামে সরকারি টিউবওয়েলের জলের ছোট্ট বিবাদকে কেন্দ্র করে মুসলিম জনতার একটি দল হিন্দু পরিবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিজেপি ওবিসি মোর্চার স্থানীয় নেতা বিনোদ কাশ্যপকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন।

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/india/su-57-fighter-jet-could-fill-india-stealth-gap-until-amca-is-ready/

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।পুলিশ সূত্র অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায়। বিনোদ কাশ্যপ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতের জলের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে মোহাম্মদ ইমতিয়াজের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁদের উপর হামলা চালায়।

   

অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি, ধারালো অস্ত্র ও পাথর দিয়ে বিনোদ কাশ্যপ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিনোদ কাশ্যপ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তাঁর স্ত্রী, ভাই ও অন্য আত্মীয়রা মাথায় গুরুতর আঘাত পান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।এই নৃশংস হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় ক্ষোভ ফেটে পড়ে।

হিন্দু সংগঠনগুলো তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদে নামে। বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ইমতিয়াজ ও তাঁর সহযোগীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে খুন ও দাঙ্গার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘটনার গুরুতর নজর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই নৃশংস ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেবে।” প্রশাসন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে। ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে গুজব না ছড়ায়। অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সম্পত্তি ভেঙে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলের সমস্যা নিয়ে আগেও ছোটখাটো বিবাদ হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছেন অনেকে। হিন্দু সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, এটি শুধুমাত্র জলের বিবাদ নয়, বরং সাম্প্রদায়িক উস্কানির অংশ। তাঁরা বলছেন, দেবভূমিতে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু অংশ হিন্দু পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।