লখনউ: বুধবার বিকেলের পর থেকে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে শুরু হওয়া প্রকৃতির তাণ্ডবে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলা। বুধবার বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে এবং সন্ধ্যা গড়াতেই প্রবল ঝড়-বৃষ্টির দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের গ্রাসে রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বজ্রপাত, দেওয়াল ধসে পড়া এবং গাছ চাপা পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলি ঘটেছে৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়াগরাজ, কানপুর, দেহাত ও ফতেহপুরের মতো জেলাগুলি। আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক৷ প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত আর্থিক সাহায্য প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। (Uttar Pradesh Storm Deaths 2026)
বিপর্যয়ের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, রাজ্যজুড়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের বহু এলাকা। মাটির ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পাকা বাড়িরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেললাইনে গাছ উপড়ে পড়ায় এবং সড়কে যান চলাচল থমকে যাওয়ায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেই সঙ্গে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজেও বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল কার্যত ধুলোয় মিশে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনিক আধিকারিকদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ কার্য চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের হাতে ক্ষতিপূরণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে দুর্ভোগ এখনই কাটছে না; আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে৷




















