POK-আকসাই চিন ভারতের অংশ! মানচিত্রে বড় বদল আমেরিকার, চাপে পাকিস্তান

কলকাতা: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার দিনই একটি অন্যরকম ঘটনা নজর কাড়ল ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি প্রকাশের সময় মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতর ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US map shows Kashmir as India

কলকাতা: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার দিনই একটি অন্যরকম ঘটনা নজর কাড়ল ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি প্রকাশের সময় মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের দফতর ভারতের যে মানচিত্রটি ব্যবহার করেছে, তাতে জম্মু-কাশ্মীর, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এবং আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই ঘটনাকে দিল্লির দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।

মানচিত্র নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বদল

অতীতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত মানচিত্রে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর বা POK-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে আলাদা করে দেখানো হতো। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের এই মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে।

   

বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য চুক্তির টানাপড়েনের পর যখন দুই দেশের সম্পর্ক নতুন রূপ নিচ্ছে, তখন এই মানচিত্রের প্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি দিল্লির আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি ওয়াশিংটনের লাইনে আসার একটি বড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত।

চিনের দাবির ওপরও প্রভাব US map shows Kashmir as India

মানচিত্রে শুধুমাত্র পাক-অধিকৃত কাশ্মীরই নয়, লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত এলাকা আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে চিনের সঙ্গে। ভারত সরকার বহুবার বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলির ভুল মানচিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবশেষে মার্কিন প্রশাসন দিল্লির এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আমলে নিল।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক যখন জোরদার করার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই মানচিত্র প্রকাশ ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতায় বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বাণিজ্য চুক্তির সুফল

মানচিত্রের কূটনীতির পাশাপাশি, চূড়ান্ত হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর আগে ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন, যা এখন কমিয়ে মাত্র ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই চুক্তি এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google