উজ্জয়িন: মধ্যপ্রদেশের পবিত্র নগরী উজ্জয়িনে ভারত জয়ের আনন্দের পরিবেশ হঠাৎই উত্তপ্ত (Hindu Muslim clash)। টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় উদযাপন করতে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন হাজারো মানুষ। পটকা ফাটানো, শোভাযাত্রা, জয়ধ্বনি সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজ। কিন্তু রাজ রয়্যাল কলোনি, জিরো পয়েন্ট ব্রিজের কাছে চিমাঙ্গঞ্জ এলাকায় এই উৎসব হঠাৎই হিংসায় রূপ নিল। হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে পটকা ফাটানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, আর সেই বিবাদ কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাথর ছোড়া, লাঠিসোঁটা, এমনকি রক্তপাতে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক উচ্চস্বরে পটকা ফাটাচ্ছিলেন, যা নাকি কাছাকাছি একটি মসজিদ বা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একপক্ষ অভিযোগ করে যে, পটকা ফাটানোর সময় কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদের দিকে লক্ষ্য করে ফাটিয়েছে। অন্যপক্ষ বলছে, এটা শুধু উদযাপনের অংশ, কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল না। কথা কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি, তারপর পাথর ছোড়া শুরু।
শীঘ্রই দুই পক্ষই রাস্তায় নেমে আসে। লাঠি, রড, এমনকি ধারালো অস্ত্রও ব্যবহার হয়েছে বলে খবর। মহিলাসহ ১০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদের উজ্জয়িনের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রক্তাক্ত মাথা, ভাঙা হাত-পা, ছিন্নভিন্ন জামাকাপড় দৃশ্য দেখে চোখে জল এসেছে অনেকের।পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এলাকায় ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আর কোনো অঘটন না ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আহতদের চিৎকার, কান্না আর ভাঙা গাড়ি-বাইকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন জয়ের আনন্দ কেন এভাবে বিভেদের আগুনে পুড়ে যায়?উজ্জয়িনের মতো শহর, যেখানে মহাকালের মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসেন, সেখানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এলাকাবাসী বলছেন, এই ধরনের ছোট বিবাদ থেকে বড় সংঘর্ষে রূপ নেওয়া নতুন নয়। পুরনো ক্ষত, রাজনৈতিক উসকানি, সামাজিক অসহিষ্ণুতা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেউ কেউ বলছেন, জয় উদযাপনের নামে পটকা ফাটানোকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে। অন্যরা বলছেন, এটা সাধারণ মানুষের আবেগের ফসল, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
আহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমরা শুধু জয়ের আনন্দ করছিলাম। হঠাৎ পাথর এসে পড়ল। আমার বোনের মাথা ফেটে গেল।” হাসপাতালে ভিড়, আত্মীয়দের কান্না পুরো এলাকা শোকে মুহ্যমান। প্রশাসন শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। উজ্জয়িনের এসপি বলেছেন, “দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধর্মীয় ভিত্তিতে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।”



















