ভয়ঙ্কর বিলে আনছে ট্রাম্প! ভারত-চিনের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল (Trump)। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলকে সমর্থন দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
trump-supports-sanctions-bill-against-russian-oil-buyers

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল (Trump)। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলকে সমর্থন দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দাবি করেছেন তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। প্রস্তাবিত এই বিলে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে চীন ও ভারতের নাম, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিলটি পাস হলে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় বুধবার লিন্ডসি গ্রাহাম জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর তিনি নিশ্চিত হয়েছেন এই বাইপার্টিজান বিলটিতে ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে।

   

ইডি অভিযান ঘিরে মমতার ভূমিকা, আইনজীবী হিসেবে লজ্জিত বিকাশরঞ্জন

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে এই বিলটি প্রণয়ন করেছেন লিন্ডসি গ্রাহাম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই আইন কার্যকর হলে সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, যারা রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে কার্যত জ্বালানি জোগাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং কৌশলগত বার্তাও।

লিন্ডসি গ্রাহাম আরও স্পষ্ট করে বলেন, চীন, ভারত এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে এই বিলটি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীন এখনও রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হওয়ায় এই বিল ঘিরে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আমেরিকা ও ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবু বাস্তবতা হল—চীন ও ভারত সেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রুশ তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় অর্ধেকই কিনেছে চীন। ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্রাজিলও ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর রুশ তেল কেনা বাড়িয়েছিল, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি কিছুটা কমেছে।

প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে ওয়াশিংটন গত কয়েক মাস ধরে মস্কো ও কিয়েভ দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলে ট্রাম্পের সমর্থন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে, যারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে শক্তি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার তেল আমদানি করছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। ওই প্রস্তাবে ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। তবে রাশিয়া আগেই স্পষ্ট করেছে ইউক্রেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা কোনওভাবেই মেনে নেবে না।

নিজের প্রস্তাবিত বিল নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আইন সময়ের দাবি। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেন শান্তির স্বার্থে ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন কেবল কথার কথা বলছেন। যুদ্ধ থামছে না, বরং প্রতিদিন নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।

এই অবস্থায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তির মূল উৎসে আঘাত হানাই একমাত্র পথ এমনটাই দাবি করছেন তিনি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সমর্থনে এই বিল পাস হলে তার প্রভাব শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, ভারতসহ একাধিক দেশের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google