দুই দেশের সম্পর্ক মধুর করতে ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি ৬০০ আনারস

আগরতলা: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধুর এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে ‘ফল কূটনীতি’ (pineapple export)। ত্রিপুরা সরকার ৬০০টি উন্নতমানের আনারসের একটি চালান বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে…

tripura-pineapple-export-bangladesh

আগরতলা: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধুর এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে ‘ফল কূটনীতি’ (pineapple export)। ত্রিপুরা সরকার ৬০০টি উন্নতমানের আনারসের একটি চালান বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঋতুনির্ভর ফল বিনিময়ের এই ঐতিহ্যবাহী প্রথা অব্যাহত রেখে ত্রিপুরার এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১০০টি কার্টনে করে ছয়টি করে আনারস ভর্তি এই চালান আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে এই চালান পাঠানো হয়। প্রতিটি আনারসই ত্রিপুরার সেরা বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোর মিষ্টতা, আকার এবং গুণগত মানের জন্য খ্যাতি রয়েছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে ৪ তলা ভবন ভেঙে মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমের চালানের জবাবে ত্রিপুরার এই আনারস উপহারকে দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।ত্রিপুরা সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, “এটি শুধু ফল বিনিময় নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার প্রয়াস। আনারস ত্রিপুরার অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্যোগ চাষিদেরও উৎসাহিত করবে।”

আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে চালানটি পাঠানোর সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।দুই দেশের মধ্যে ফল বিনিময়ের এই প্রথা বহু পুরনো। প্রতি বছর ঋতু অনুযায়ী আম, আনারস, লিচুসহ বিভিন্ন ফল এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ত্রিপুরায় উন্নতমানের আম পাঠিয়েছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার ত্রিপুরার আনারস। এই বিনিময় শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগকেও উৎসাহিত করে।ত্রিপুরার চাষিরা এই উদ্যোগে খুশি। ত্রিপুরার আনারস বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে এর চাহিদা রয়েছে।

আরও দেখুনঃ ভারতে পালানোর সময় গ্রেফতার সন্ত্রাসবাদী ইমনের কাছে ভারতের আধার! নাম আজহার খান

বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে মানুষের স্তরে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনও জোরদার হয়।” আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত দিয়ে এই বাণিজ্যিক ও সৌজন্যমূলক চালান চলাচল অব্যাহত রাখতে দুই দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।