প্রখ্যাত উর্দু কবি মুনাওয়ার রানার কন্যা শিফা রানা এখন এক গভীর ব্যক্তিগত সংকটের মুখোমুখি (Triple Talaq)। লখনউয়ের সাদাতগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি স্বামী সৈয়দ মোহাম্মদ সাকিব এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক তিন তালাক , পন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে, যাতে মুসলিম মহিলা আইন, ২০১৯-এর ধারা ৩ ও ৪, দহেজ নিষিদ্ধকরণ আইনের ধারা ৩ ও ৪ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিফা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর কারিমগঞ্জ নিবাসী সাকিবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাঁর বাবা মুনাওয়ার রানা সোনা-হীরার গয়না এবং ১০ লক্ষ টাকা নগদ দহেজ হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আরও দহেজের দাবি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা ২০ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি ফ্ল্যাট দাবি করে।
আরও দেখুন: নিউ জলপাইগুড়িতে প্ল্যাটফর্মে বড় পরিবর্তন, বদলেছে একাধিক ট্রেনের দাঁড়ানোর জায়গা
শিফা বলেছেন, এই দাবি পূরণ করার চেষ্টা করেছেন তাঁর পরিবার, কিন্তু নির্যাতন থামেনি। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল সাকিব ক্রোধের বশে তাঁকে গালাগালি করে, মারধর করে এবং সামনে তিন তালাক উচ্চারণ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমনকি দুই সন্তানকে বাড়িতে আটকে রেখে তাঁকে বাচ্চাদের থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক বিবাদ নয়, এতে একটা গভীর রাজনৈতিক-সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।
মুনাওয়ার রানা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার মোদী সরকারের নীতি, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করতেন। ২০১৯ সালে যখন মুসলিম মহিলা (বিবাহে অধিকার সুরক্ষা) আইন পাস হয়, যা তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করে, তখন অনেক মুসলিম নেতা ও ব্যক্তিত্ব এর বিরোধিতা করেছিলেন।
মুনাওয়ার রানার পরিবারও এই আইনের বিরোধী ছিল বলে জানা যায়। অথচ আজ সেই একই আইন যা মোদী সরকারের আমলে প্রণীত তাঁর কন্যাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। শিফা এই আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে ন্যায়ের আশা করছেন।এই ঘটনা অনেকের কাছে লোহারি বা বিড়ম্বনা বলে মনে হচ্ছে। যে আইনকে একসময় ‘মুসলিমদের অধিকার হরণ’ বলে সমালোচনা করা হয়েছিল, সেই আইনই এখন এক বিখ্যাত সমালোচকের কন্যার পাশে দাঁড়িয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এটাকে ‘কর্মফল’ বা ‘ইতিহাসের বিড়ম্বনা’ বলে উল্লেখ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, এতে প্রমাণিত হয় যে আইন সবার জন্য সমান, সমালোচক হোক বা সমর্থক। তবে এই ঘটনা দহেজ প্রথা ও নারী নির্যাতনের গভীর সমস্যাকেও তুলে ধরছে। মুসলিম সমাজে তিন তালাকের প্রথা নিষিদ্ধ হওয়ার পরও অনেক জায়গায় এটি চলছে, এবং দহেজের দাবি তো সর্বত্রই একটা অভিশাপ।




















