ওডিশায় মাওবাদী দমন অভিযানে বড় সাফল্য, টানা এনকাউন্টারে নিহত পাঁচ

ওডিশার কন্ধমাল জেলায় মাওবাদী দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দু’দিনের টানা কম্বিং অপারেশনে মোট পাঁচ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা…

10 Maoists killed in Sukma encounter

ওডিশার কন্ধমাল জেলায় মাওবাদী দমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দু’দিনের টানা কম্বিং অপারেশনে মোট পাঁচ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও, যা এই অভিযানের তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কন্ধমালের বেলঘর থানার অন্তর্গত গুম্মা জঙ্গল এলাকায়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে দুই মাওবাদী নিহত হয়। পরের দিন, বৃহস্পতিবার সকালে চাকাপাড়া থানার অধীনে নারিগ ঝোলা বনাঞ্চলে ফের সংঘর্ষ হয়। সেই এনকাউন্টারে আরও তিন জন মাওবাদীকে নিকেশ করা হয়।

   

বিশেষ গোয়েন্দা শাখা (এসআইডব্লিউ)-এর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান শুরু হয়। কন্ধমালের চাকাপাড়া থানা এলাকা এবং সংলগ্ন গঞ্জাম জেলার রম্ভা বনাঞ্চল জুড়ে যৌথভাবে অভিযান চালায় মোট ২৩টি দল। এর মধ্যে ছিল ২০টি স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি), সিআরপিএফ-এর দু’টি দল এবং বিএসএফ-এর একটি দল। বৃহস্পতিবার সকালেই একাধিক স্থানে এসওজি দলের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এনকাউন্টারের পর তল্লাশি চালিয়ে চার জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি ইনসাস রাইফেল এবং একটি .৩০৩ রাইফেল। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি গণেশ উইকে মাওবাদী সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য এবং ওডিশায় সংগঠনের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রধান বলে পরিচিত।

অন্য তিন জন নিহত মাওবাদীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, এই অভিযানের ফলে ওডিশা অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্বে বড় ধাক্কা লাগল। প্রশাসনের অনুমান, এই মুহূর্তে ওই এলাকায় সক্রিয় একমাত্র উল্লেখযোগ্য মাওবাদী নেতা হিসেবে দেবুজি-ই রয়ে গেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এলাকা পুরোপুরি স্যানিটাইজ করার জন্য তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। মাওবাদী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে যাতে সংগঠন পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।