তেলেঙ্গানায় ফের মেরে ফেলা হল ২০০ পথ কুকুর

তেলেঙ্গানা: তেলেঙ্গানায় পথকুকুরের সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে (Telangana)। জানুয়ারি মাসে রাজ্যজুড়ে হাজারের বেশি পথকুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায়…

telangana-stray-dogs-killing-hanumakonda

তেলেঙ্গানা: তেলেঙ্গানায় পথকুকুরের সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে (Telangana)। জানুয়ারি মাসে রাজ্যজুড়ে হাজারের বেশি পথকুকুরকে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায় হানুমাকোন্ডা জেলায় আরও প্রায় ২০০টি পথকুকুর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাণী অধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো বিষ প্রয়োগ বা লেথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে করা হয়েছে।

এ নিয়ে রাজ্যে জানুয়ারি মাসের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।এই ঘটনাগুলোর পেছনে অনেকের অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। অনেক প্রার্থী ভোটারদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নির্বাচিত হলে পথকুকুর ও বানরের উপদ্রব থেকে গ্রামকে মুক্ত করবেন। নির্বাচিত হয়ে গ্রামের প্রধান, ওয়ার্ড মেম্বার ও গ্রাম পঞ্চায়েত সেক্রেটারিরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের নামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।

   

ফিরল জোটার স্মৃতি, তবে অল্পের জন্য শেষরক্ষা এই ফরাসি তারকার

হানুমাকোন্ডার শায়ামপেট ও আরেপল্লি গ্রামে আগেই প্রায় ৩০০টি কুকুর মারা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গ্রাম প্রধান সহ নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।প্রাণী অধিকার সংগঠন স্ট্রে অ্যানিমাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসএএফআই) ক্রুয়েলটি প্রিভেনশন ম্যানেজার অদুলাপুরম গৌতম একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, পথিপাকা গ্রামে গ্রাম পঞ্চায়েত সেক্রেটারির নির্দেশে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে ২০০টি কুকুর মারা হয়েছে।

এই অভিযোগকে শায়ামপেট থানায় ইতিমধ্যে দায়ের করা এফআইআরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্টের অধীনে মামলা রুজু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন মহিলা সর্পঞ্চ ও তাদের স্বামী রয়েছেন। কামারেড্ডি জেলায়ও ছয়জন, যার মধ্যে পাঁচজন গ্রামের মাথাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, কুকুরগুলোকে বিষাক্ত ইনজেকশন বা বিষ মেশানো খাবার দিয়ে মারা হয়েছে। মৃতদেহগুলো গ্রামের বাইরে গর্তে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাবে ভিসেরা স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে, যাতে বিষের ধরন নিশ্চিত করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট কনট্রাক্টরদের হায়ার করা হয়েছে, যারা প্রতি কুকুরে ৫০০-১,০০০ টাকা নিয়ে এই কাজ করেছে।

প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু অমানবিক নয়, অকার্যকরও। পথকুকুরের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল (এবিসি) প্রোগ্রাম চালানো দরকার স্টেরিলাইজেশন ও অ্যান্টি-রেবিজ ভ্যাকসিনেশন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েতগুলো এতে ব্যর্থ হয়েছে। তেলেঙ্গানায় ২০২৪ সালে প্রায় ১.২২ লক্ষ ডগ বাইট কেস রেকর্ড হয়েছে, কিন্তু রেবিজে কোনো মৃত্যু হয়নি।

তবু গ্রামবাসীরা কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ করেন।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রী দানাসারি অনাসূয়া সীতাক্কা বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড অবৈধ ও অমানবিক। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টও স্ট্রে অ্যানিম্যাল ম্যানেজমেন্টে রাজ্যগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে। আদালত বলেছে, ডগ বাইটের ক্ষেত্রে রাজ্যকে ভারী ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।