
নয়াদিল্লি: রাস্তার দখল, পথচারীর নিরাপত্তা, আর প্রাণীদের অধিকার (Supreme Court)এই তিনের সংঘাতে ফের উত্তপ্ত সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি স্ট্রিট ডগ বা পথকুকুর সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এমনই এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কপিল সিব্বাল যখন পথকুকুরপ্রেমীদের পক্ষে সওয়াল করতে দাঁড়ান, তখন আদালতের বেঞ্চের প্রশ্নেই যেন নতুন মাত্রা পায় বিতর্ক।
শুনানির শুরুতেই আদালত কপিল সিব্বালদের কাছে জানতে চায়, “আপনি কুকুরের পক্ষে কথা বলছেন, আপনার মত কী মুরগি আর ছাগল নিয়ে?” মুহূর্তের মধ্যেই সিব্বালের জবাব, “আমি মুরগির মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।” এই উত্তর শুনে আদালতকক্ষেই খানিক হাসির রোল উঠলেও, বিচারপতিদের মন্তব্য দ্রুতই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।
বাংলায় ফেরা নিগৃহীত পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে অভিষেক
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, রাস্তা সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য। “কুকুর কামড়াক বা না কামড়াক, তারা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে,” মন্তব্য আদালতের। বিচারপতিদের মতে, শহরের রাস্তায় অবাধে কুকুরের ঘোরাফেরা শুধু পথচারীদের জন্যই নয়, যানবাহনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
এই মন্তব্যের পাল্টা যুক্তিতে কপিল সিব্বাল তুলে ধরেন তুলনামূলক এক উদাহরণ। তিনি বলেন, “একটা বাঘ আক্রমণ করলে কি সব বাঘকে খাঁচায় পুরে দেওয়া হয়? যদি কিছু কুকুর কামড়ায়, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্বীজন করে আবার ছেড়ে দেওয়া হোক।” সিবালের বক্তব্যে স্পষ্ট, সমস্যার সমাধান নিধন নয়, বরং বৈজ্ঞানিক ও মানবিক ব্যবস্থাপনা।
কিন্তু এখানেই থামেনি আদালত। বেঞ্চের তরফে ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য আসে, “এবার তাহলে কুকুরদের কাউন্সেলিং করানোই বাকি, যাতে ছাড়ার পর তারা ভালো ব্যবহার করে।” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ একে আদালতের হতাশা হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার বলছেন, এতে প্রাণী অধিকার আন্দোলনকে খাটো করা হয়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষাপটে ফের সামনে এল বড় প্রশ্ন ভারতের শহরগুলোতে পথকুকুর সমস্যা আদৌ কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত? একদিকে রয়েছে নাগরিক নিরাপত্তার দাবি। শিশু, বৃদ্ধ ও পথচারীদের উপর কুকুরের হামলার ঘটনা নতুন নয়। অন্যদিকে রয়েছে প্রাণী অধিকার কর্মীদের যুক্তি দোষী মানুষ, ব্যবস্থা নয়। তাঁদের মতে, নিয়মিত নির্বীজন ও টিকাকরণই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
এই শুনানি যেন সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল। আদালত যেখানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কথা বলছে, সেখানে কপিল সিব্বাল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর জোর দিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, আইন কি শুধুই মানুষের সুবিধা দেখবে, নাকি শহরের বাস্তুতন্ত্রে প্রাণীদের অস্তিত্বকেও গুরুত্ব দেবে? সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ও সিবালের পাল্টা যুক্তি শুধু একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। এটি এখন শহুরে জীবনে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের এক প্রতীকী বিতর্কে পরিণত হয়েছে। সমাধান যে এখনও অধরা, তা এই শুনানিতেই স্পষ্ট।








