বাংলায় ফেরা নিগৃহীত পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে অভিষেক

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকে আজ এক আবেগপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী রইল গোটা এলাকা (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা অসিত সরকারের বাড়িতে…

Abhishek to visit Ranjit Mallik house

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকে আজ এক আবেগপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী রইল গোটা এলাকা (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা অসিত সরকারের বাড়িতে পৌঁছে যান। অসিত সেই পরিযায়ী শ্রমিক, যিনি মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে শুধু বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এবং ফরেনার্স অ্যাক্টে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছিলেন।

আজ বাংলায় ফিরে এসে অসিতের চোখে জল, গলায় কৃতজ্ঞতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেকের হস্তক্ষেপেই নাকি তিনি মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। অসিত সরকার মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলায় স্থানীয় একদল লোক তাঁকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

   

জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে CEO বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বাংলার নির্বাচনী প্রধান

পাসপোর্ট-ভোটার কার্ড সব থাকা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র পুলিশ তাঁকে ফরেনার্স অ্যাক্টে গ্রেফতার করে। জেলে কাটাতে হয় প্রায় এক মাস। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিমবঙ্গে হইচই পড়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এটাকে ‘বাঙালি বিরোধী মনোভাবের চরম নিদর্শন’ বলে সমালোচনা করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিষয়টি নজরে আনেন এবং দলের আইনজীবীদের মাধ্যমে আইনি লড়াই শুরু করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অবশেষে ডিসেম্বরের শেষে অসিত মুক্তি পান এবং বাংলায় ফিরে আসেন।আজ সকালে অভিষেকের কনভয় যখন তপনের ছোট্ট গ্রামে ঢোকে, রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমে যায়। অসিতের সাধারণ ইটের বাড়ির সামনে ফুলের মালা, তৃণমূলের পতাকা। অভিষেক গাড়ি থেকে নেমে সোজা অসিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

অভিষেক অসিতকে আশ্বাস দেন যে বাঙালির অপমান তিনি কখনো সহ্য করবেন না। তিনি বলেন, “অসিত আমাদের পরিবারের সদস্য। যে কোনো বাঙালি শ্রমিক অন্য রাজ্যে গিয়ে অপমানিত হলে তৃণমূল তাঁর পাশে থাকবে। এটা শুধু অসিতের লড়াই নয়, প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিকের অধিকারের লড়াই।” অভিষেক অসিতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, “যারা বাঙালিকে বিদেশি বলে, তাদের মনে রাখতে হবে বাংলা আমাদের মা, বাঙালি আমাদের পরিচয়।”