নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুতে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্ট যে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, সোমবার তার ওপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, হাইকোর্টের ওই নির্দেশে সংশোধনের অবকাশ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপে আপাতত রাজ্য সরকারের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি চলার পথ প্রশস্ত হলো।
প্রেক্ষাপট
গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, বকরি ইদ বা অন্য কোনো দিন তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে না। পুলিশ ও প্রশাসনকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তামিলনাড়ু সরকার।
রাজ্য সরকারের যুক্তি
হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার জানায়, এটি ‘তামিলনাড়ু অ্যানিম্যাল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৮’-এর পরিপন্থী। ১৯৫৮ সালের ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া রয়েছে। যেমন, কোনো পশু যদি ১০ বছরের বেশি বয়সী হয় অথবা কৃষিকাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়, তবে উপযুক্ত শংসাপত্র পাওয়ার পর সেটিকে জবাই করা যেতে পারে। রাজ্য সরকারের দাবি, হাইকোর্টের ‘ব্ল্যাঙ্কেট ব্যান’ বা সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ওই আইনের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা আদালতের এক্তিয়ার বহির্ভূত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
সোমবার মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট করে, হাইকোর্টের নির্দেশে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে আপাতত স্থগিত রেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের নোটিশ জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাদের রায়ে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের (রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতি) ওপর ভিত্তি করে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই মুহূর্তে বিদ্যমান আইন ও বিধিবদ্ধ কাঠামোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিল। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে কী নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি পালানোর চেষ্টা! ইন্দো-নেপাল সীমান্তে ধরা পড়ল সন্দেহজনক মার্কিন নাগরিক
ভুল বুঝিয়ে খ্রিস্টান করা হয়েছিল! মোদী রাজ্যে সনাতনে ফিরল ৫ আদিবাসী পরিবার





