জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মন্দির ওড়ানোর প্ল্যান! NIA জালে সাধারণ রং মিস্ত্রি সুহেল

দাবণগেরে: কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ, মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (NIA) এবং কর্ণাটক পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক রংমিস্ত্রী সুহেলকে গ্র্রেফতার করা হয়েছে। কর্ণাটকের দাবণগেরে এলাকা…

suhel-terror-plot-arrest-nia

দাবণগেরে: কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ, মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (NIA) এবং কর্ণাটক পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক রংমিস্ত্রী সুহেলকে গ্র্রেফতার করা হয়েছে। কর্ণাটকের দাবণগেরে এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, সন্দেহজনক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় ছিল এবং একটি মন্দিরে বোমা হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিল।

সুহেল পেশায় রংমিস্ত্রী। সাহারানপুর থেকে কাজের সন্ধানে কর্ণাটকে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তার মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের কয়েকটি নম্বরের সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে। কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সে সক্রিয় ছিল, যেখানে দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হামলার বিষয়ে আলোচনা হতো।

   

আরও দেখুনঃ মহারাষ্ট্রে গেরুয়া সরকারের বড় নির্দেশে বন্ধ হল কাগজের ঠোঙা

তদন্তকারীরা বলছেন, সুহেল একটি নির্দিষ্ট মন্দিরে বোমা হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।এনআইএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। সুহেলকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে বাইরের দেশের উগ্রপন্থী চক্রের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর তাকে দাবণগেরে থেকে বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার ল্যাপটপ, মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনা কর্ণাটকসহ পুরো দেশে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। মন্দিরে হামলার আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন সাধারণ রংমিস্ত্রির মাধ্যমে এত বড় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা সম্ভব হলো। সাহারানপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা অবাক হয়ে বলছেন, “সুহেল সাধারণ ছেলে, কাজ করে সংসার চালাতো। হঠাৎ এমন খবর শুনে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।” তবে পুলিশ বলছে, অনেক সময় সাধারণ পেশার আড়ালে উগ্রপন্থীরা লুকিয়ে থাকে।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সুহেলের সঙ্গে অন্য কোনো স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক চক্রের যোগাযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানি নম্বরগুলো থেকে কী ধরনের নির্দেশনা আসতো, কোন কোন গ্রুপে সে সদস্য ছিল এবং আর কারা জড়িত এসব বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চলছে। এনআইএ এই মামলায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে।