নয়াদিল্লি: প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে আধার কার্ড (Aadhaar Card)থাকলে তো একজন ভারতীয় নাগরিক বলে ধরে নেওয়া যায়? কিন্তু বাস্তব সত্যটা একেবারে আলাদা। আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র ভারতে ১৮২ দিন বা তার বেশি সময় বসবাসকারী যে কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া যায়। স্থানীয় যাচাইকরণের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও এই কার্ড সহজেই পেয়ে যান।
আর এই আধারই পরবর্তীকালে রেশন কার্ড, জন্ম সনদ এবং শেষ পর্যন্ত ভোটার আইডি পাওয়ার সিঁড়ি হয়ে দাঁড়ায়।আধার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ডুপ্লিকেট সুবিধা বন্ধ করা। কিন্তু নাগরিকত্ব নির্ধারণের দায়িত্ব আধারের নয়। সুপ্রিম কোর্টও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আধার শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের দলিল নয়। তবে অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন ১৮ বছরের উপরে নতুন করে কাউকে আধার দেওয়া হবে না। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও দেশব্যাপী কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আরও দেখুনঃ এলপিজির নির্ভরতা কমাতে ইথানল ভিত্তিক স্টোভ বাজারে আনবে মোদী সরকার
আধার আইন অনুসারে, যে কেউ ভারতে ১৮২ দিনের বেশি থাকলে আবেদন করতে পারেন। স্থানীয় ঠিকানা প্রমাণ, ভাড়ার চুক্তি বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট দেখিয়ে যাচাইকরণ হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় কঠোর জাতীয়তা যাচাই হয় না। ফলে বাংলাদেশ, মায়ানমার বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা আধার হাতিয়ে নিচ্ছেন।একবার আধার পেলে বাকি পথ অনেক সহজ।
আধার দেখিয়ে রেশন কার্ডের আবেদন করা যায়। রেশন কার্ড থাকলে জন্ম সনদ, স্কুল অ্যাডমিশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সবকিছু খুলে যায়। সবশেষে ভোটার লিস্টে নাম উঠিয়ে ভোটের অধিকারও পেয়ে যান অনেকে। এই চেইন প্রক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও ওয়েলফেয়ার সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও দিল্লির মতো এলাকায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
সরকারি তথ্য ও গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, হাজার হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আধারের আওতায় চলে এসেছেন। একজন সিনিয়র আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আধার একটি টুল, নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটাকে ভুলভাবে ব্যবহার করে অনেকে সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন, যা আসল নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।”
এই পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দিল্লির এক বাসিন্দা রাহুল শর্মা বলেন, “আমরা ট্যাক্স দিয়ে সরকারি সুবিধা পাই। অথচ যারা অবৈধভাবে দেশে ঢুকেছে, তারাও একই সুবিধা ভোগ করছে। এটা কতটা ন্যায়সঙ্গত?” বিশেষ করে চাকরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই অনুপ্রবেশের প্রভাব পড়ছে।



