নয়াদিল্লি: লাদাখের বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ (Sonam Wangchuk)সোনাম ওয়াংচুক আবার সংবাদের শিরোনামে। দিল্লিতে অনশন শুরু করেছেন তিনি। কিন্তু এই অনশনের পিছনে রয়েছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত ঘটনাপ্রবাহ, যা শুধু একজন ব্যক্তির লড়াই নয়, লাদাখের উন্নয়ন, জমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জটিল ছবি তুলে ধরছে।
২০১৮ সালে সোনাম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস (এইচআইএএল)-কে লাদাখে প্রায় ৬০ হেক্টর জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। শর্ত ছিল স্পষ্ট এক বছরের মধ্যে ১৪ কোটি টাকা জমা দিতে হবে এবং দু’বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই শর্তগুলো পূরণ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বকেয়া বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩৭ কোটি টাকায়।
আরও দেখুনঃ ৪ বছরের শিশু কন্যাকে শারীরিক নির্যাতন! যোগী রাজ্যে আবরারকে গুলি করে খোঁড়া করল পুলিশ
শেষ পর্যন্ত প্রশাসন জমির বরাদ্দ বাতিল করে দেয়।এই বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে লাদাখে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয় এবং সত্তরের বেশি মানুষ আহত হন। লাদাখের স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মনে করেন, এইচআইএএল প্রকল্পটি লাদাখের শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অন্যদিকে প্রশাসনের যুক্তি, নিয়ম মেনে চলতে না পারায় বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।সোনাম ওয়াংচুক এই ঘটনার পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দিল্লিতে অনশন শুরু করে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, জমির বরাদ্দ পুনর্বহাল করা হোক এবং প্রকল্পটি চালু করার সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁর সমর্থকরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠান লাদাখের যুবকদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশ সচেতনতা শেখানোর এক অনন্য উদ্যোগ।
জমি বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের স্বপ্নে আঘাত করেছে।তবে ঘটনার অন্য দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, বড় অঙ্কের জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে আর্থিক শর্ত পূরণ না করলে বাতিল করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল এতগুলো বছরেও শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে। অনেকে মনে করেন, এই বিতর্কের পিছনে শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, লাদাখের ভূমি অধিকার, উন্নয়ন মডেল এবং স্থানীয় আকাঙ্ক্ষার সংঘাতও রয়েছে।
লাদাখের মানুষের কাছে সোনাম ওয়াংচুক এক আইকন। তিনি আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই, হিমবাহ রক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের প্রচারের জন্য পরিচিত। তাঁর অনশন শুরুর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থন আসছে। অনেক পরিবেশকর্মী ও ছাত্র সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে লাদাখের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁরা চান, উন্নয়ন হোক, কিন্তু স্থানীয় মানুষের অধিকার যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।



