নয়াদিল্লি: টানা ১৮ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় এবার আসরে নামল আদালত। সোনমকে হাসপাতালে ভর্তি করা এবং প্রয়োজনে জোর করে খাওয়ানোর (force feed) নির্দেশ চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে।
আদালতে মামলার প্রেক্ষাপট
অ্যাডভোকেট রাকেশ কুমার সাইনি এই মামলাটি দায়ের করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, সোনমের শরীরের ওজন ইতিমধ্যে ৮.৫ কেজি কমে গিয়েছে এবং যেভাবে পেশির ক্ষয় হচ্ছে, তাতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। পিটিশনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সোনমের মৃত্যু হলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে। আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারকে অবিলম্বে সোনমকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তরল খাদ্যের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
অনশনে অনড় সোনম
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে NEET পরীক্ষায় অনিয়ম ও অন্যান্য দাবিতে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, তিনি তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন। তবুও তিনি অনশন ভাঙতে নারাজ। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকে জানিয়েছেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সোনম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাকে অনশন তোলার কথা না বলে সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা কেন আলোচনার টেবিলে বসছে না।”
দেশজুড়ে উদ্বেগের ঢেউ
সোনমের এই অনশন নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো রাজনৈতিক নেতারা তাঁকে অনশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমানও সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। তিনি বলেন, “ভারতের মতো দেশ একজন মহৎ চিন্তাবিদকে এভাবে বিসর্জন দিতে পারে না।”
এখন দিল্লি হাইকোর্ট এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কী নির্দেশ দেয় এবং সরকার সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





