সোনম ইস্যুতে বড় নির্দেশ আদালতের, কেন্দ্রের অবস্থান জানালেন সলিসিটর জেনারেল

বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে…

বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনশনের জেরে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁর জীবন সংকটের মুখে পড়তে পারে।

জানা গিয়েছে, সোনম ওয়াংচুক(Sonam Wangchuk) টানা ১৯ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর প্রায় সাড়ে আট কেজি ওজন কমেছে। দীর্ঘদিন খাবার গ্রহণ না করার ফলে শরীরে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয় আদালতে।

দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়, সোনম ওয়াংচুক যদি অনশন চালিয়ে যান, তাহলে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। আবেদনে তাঁর জন্য জরুরি মেডিক্যাল পর্যবেক্ষণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও মিনারেল দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জোর করে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়। আদালতের বেঞ্চ জানায়, একজন সরকারি চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী যদি কোনও ওষুধ বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালত স্পষ্ট করে জানায়, সোনম ওয়াংচুকের প্রাণ রক্ষার জন্য যে সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করে আদালত।

সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, শিক্ষা এবং লাদাখের বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে জনস্বার্থমূলক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্যও তিনি পরিচিত। এবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।

তাঁর অনশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের দাবি, তাঁর দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে, তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ।

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর এখন নজর রয়েছে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর অনশন এবং দাবিগুলি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।