পণবন্দি ১৫–২০ শিশু, স্টুডিও থেকে রহস্যময় ভিডিও বার্তা অপহরণকারীদের

মুম্বই, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর): মুম্বইয়ের (Mumbai Hostage Crisis) পোয়াই এলাকায় অবস্থিত একটি অভিনয় শিক্ষাকেন্দ্র — ‘আর.এ. স্টুডিও’ — হঠাৎই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যখন এক ব্যক্তি…

several-children-held-hostage-in-mumbai-acting-studio-rescue-operation-underway

মুম্বই, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর): মুম্বইয়ের (Mumbai Hostage Crisis) পোয়াই এলাকায় অবস্থিত একটি অভিনয় শিক্ষাকেন্দ্র — ‘আর.এ. স্টুডিও’ — হঠাৎই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যখন এক ব্যক্তি দিনের আলোয় ১৭ জন শিশু, এক প্রবীণ নাগরিক এবং আরও এক ব্যক্তিকে পণবন্দি করে রাখে। ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় সব শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আর.এ. স্টুডিওতে নিয়মিত অভিনয় প্রশিক্ষণ চলছিল। প্রতিদিনের মতোই বহু শিশু সেখানে অভিনয়ের অডিশন দিতে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রোহিত আর্য, যিনি স্টুডিওরই এক কর্মচারী এবং নিজে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতেন।

Advertisements

গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি নিজেই শিশুদের অডিশন নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালেও প্রায় ১০০ জন শিশু অডিশনে অংশ নেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রোহিত ৮০ জনের মতো শিশুকে ছেড়ে দিলেও ১৫ থেকে ২০ জন শিশুকে আটকে রাখেন স্টুডিওর ভেতরে।

রোহিত আর্য পরে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজেকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। রোহিত দাবি করেন, তাঁর দাবি অর্থনৈতিক নয়, বরং “নৈতিক ও নীতিগত”। তিনি বলেন, “আমি টাকার জন্য এটা করিনি, আমি চাই সমাজ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলুক।” যদিও তাঁর এই বক্তব্যে কী ধরনের “নৈতিক দাবি” ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুম্বই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এলাকার চারদিক ঘিরে ফেলা হয় এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) দত্তা নালাওয়াডে জানান, ঘটনাস্থল থেকে এয়ারগান ও কিছু রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত সম্পূর্ণ একাই এই কাজটি করেছে। আমরা দ্রুত পরিকল্পনা করে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্টুডিওর বাথরুমের দিকের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন, যাতে কেউ বাইরে যেতে না পারে। পুলিশ সেই দিক দিয়েই জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভিতরে ঢোকে এবং শিশুদের একে একে উদ্ধার করে।