মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দেশের উদীয়মান শ্যুটার

sambhaji-patil-road-accident-palghar-mumbai-ahmedabad-highway

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের পালঘরের কাছে মুম্বই–আহমেদাবাদ জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন (Sambhaji Patil)ভারতের উদীয়মান আন্তর্জাতিক শ্যুটার সম্ভাজি পাটিল। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই তার এই অকালমৃত্যু ভারতীয় ক্রীড়া জগতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

জানা গেছে, গতরাতে পুণে থেকে গুজরাটে অনুশীলনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সম্ভাজি পাটিল। তার সঙ্গে ছিলেন বন্ধু ও সহ-শ্যুটার যশ প্রশান্ত চৌধুরী। তারা একটি দ্রুতগতির টয়োটা ফর্চুনার গাড়িতে করে যাত্রা করছিলেন। পথে পালঘরের কাছে ওভারটেক করার সময় হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভারী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি।

   

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ধাক্কা এতটাই প্রবল ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং ওভারটেক করার সময় বাঁদিক দিয়ে একটি ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখনই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা লাগে।

আরও দেখুন: বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করল না তৃণমূল! কৌশলী অবস্থান অভিষেকের

আরও এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চালক যশ চৌধুরী দ্রুতগতিতে লেন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি সময়মতো দেখতে না পাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সম্ভাজি পাটিলের। তার বন্ধু যশ চৌধুরী গুরুতর জখম হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসা চলছে।

সম্ভাজি পাটিল ভারতীয় শ্যুটিং জগতের এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম ছিলেন। ২০১৬ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপে ২৫ মিটার স্ট্যান্ডার্ড পিস্তল বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কেড়েছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে একই বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ২৩তম স্থান অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের (ISSF) তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাজি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন প্রখ্যাত শ্যুটার ও জাতীয় কোচ জস্পাল রানার কাছে। তার শুটিং দক্ষতা ও মনোযোগের জন্য তিনি কোচ এবং সহখেলোয়াড়দের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত ছিলেন।

ক্রীড়াজগতের পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করছিলেন। পুণের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে স্পোর্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সম্ভাজি পাটিল। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শ্যুটিং মহল, ক্রীড়াপ্রেমী ও সহখেলোয়াড়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

একজন প্রতিভাবান শ্যুটার হিসেবে সম্ভাজির সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে ছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিল অকালে। তার এই মৃত্যু ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই থেকে যাবে।