
ভারতের প্রাক্তন বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র’)-এর প্রধান সামন্ত গোয়েলের (Samant Goel)একটি মন্তব্য ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্তরের নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ড্রোন হামলা, স্নাইপার অস্ত্র এবং সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের মতো নতুন ধরনের হুমকির কথা তুলে ধরে তিনি নিরাপত্তা পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।
#BREAKING: India’s former External Intelligence Agency R&AW Chief Samant Goel says, “The current international security situation is highly volatile. There have been three attacks on US President Trump, despite it being considered the safest country. There are several elements… pic.twitter.com/CF7STOi8gv
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) May 15, 2026
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সামন্ত গোয়েল বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও অশান্ত। তাঁর মতে, বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত আমেরিকাতেও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর একাধিক হামলার চেষ্টা হয়েছে। সেই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতকেও এখন নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও সতর্ক হতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছে এমন বহু শক্তি সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মদতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এখনও চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।”
আরও দেখুনঃ আইএসএলে বড় বদলের ইঙ্গিত, নতুন মডেলের দাবি ক্লাবগুলির ! ব্যতিক্রম ইস্টবেঙ্গল
প্রাক্তন র’ প্রধানের মতে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হামলার ধরনও বদলেছে। আগে যেখানে নিরাপত্তার মূল উদ্বেগ ছিল মানববোমা বা গাড়িবোমা, এখন সেখানে ড্রোন, স্নাইপার রাইফেল এবং দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিনির্ভর হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি।
সামন্ত গোয়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানোর কোনও সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে হবে না। বরং নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করা উচিত। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ দেশের প্রধানমন্ত্রী শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীকও।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক নেতাদের উপর হামলার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্চপদস্থ নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অনলাইন চরমপন্থার বিস্তার নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ভারতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কড়া এসপিজি নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে সামন্ত গোয়েলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের হুমকির ধরন মাথায় রেখে এই ব্যবস্থার আরও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
রাজনৈতিক মহলেও এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ যদিও এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সাধারণত সব রাজনৈতিক দলই সতর্ক অবস্থান নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত।
সামন্ত গোয়েল দীর্ঘদিন ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কৌশলগত বিষয় নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বিস্তৃত। সেই কারণে তাঁর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে প্রশাসনিক মহল।

