নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) থেকে বড়সড় কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার মোদীর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে ভারত ও আমিরশাহির মধ্যে একাধিক প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে ভারতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে আবু ধাবি। (Modi UAE Visit Investment Deals)
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সেরা ৫ প্রাপ্তি
১. কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব: সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হল ‘স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ’ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি। এবার থেকে কেবল সামরিক মহড়াতেই দুই দেশ সীমাবদ্ধ থাকবে না। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যৌথ উদ্ভাবন, কো-প্রডাকশন এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করবে ভারত ও আমিরশাহি।
২. ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (Strategic Petroleum Reserves): বিশ্ব বাজারে তেলের অস্থির দাম এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার মাঝে ভারতের ‘এনার্জি সিকিউরিটি’ নিশ্চিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে বিশেষ মৌ (MoU)। আমিরশাহির তেল সংস্থা ‘অ্যাডনক’ (ADNOC) ভারতের ভূগর্ভস্থ রিজার্ভে তেল মজুত রাখবে, যা যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি সংকট রুখবে।
৩. রান্নার গ্যাসের স্থিতিশীল জোগান (LPG Agreement): ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL) এবং অ্যাডনক-এর মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী এলপিজি (LPG) সরবরাহ চুক্তি হয়েছে। ভারতের রান্নার গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা মেটায় আমিরশাহি। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উত্থান-পতন হলেও ভারতীয় গ্রাহকরা সুরক্ষিত থাকবেন।
৪. গুজরাটে শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার: গুজরাটের ভাদিনারে একটি ‘শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার’ তৈরির জন্য মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভারত জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যতম বড় হাবে পরিণত হবে, যা নীল অর্থনীতিতে (Blue Economy) জোয়ার আনবে।
৫. ৫ বিলিয়ন ডলারের মেগা বিনিয়োগ: আমিরশাহি ভারতে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা ভারতের পরিকাঠামো প্রকল্প, আরপিএল (RBL) ব্যাঙ্কের ঋণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আবাসন অর্থলগ্নিকারী সংস্থা ‘সম্মান ক্যাপিটাল’-এ তারল্য বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হবে।
পরবর্তী লক্ষ্য ২০০ বিলিয়ন ডলার
আধিকারিকদের মতে, এই চুক্তিগুলি প্রমাণ করে যে ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক কেবল তেল কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন প্রতিরক্ষা ও ফিন্যান্সের মতো স্তরে পৌঁছেছে। দুই দেশ ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের গণ্ডি পার করেছে এবং আগামী কয়েক বছরের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০০ বিলিয়ন ডলার।




















