‘দলিত, শিখ-লিঙ্গায়ত শিব ভক্তদের মুসলিমদের সঙ্গে মিলিয়ে দেব!’ বিস্ফোরক ইমাম প্রধান রশিদী

নয়াদিল্লি: মাওলানা সাজিদ রশিদির একটি বিতর্কিত বক্তব্য সারা দেশে দেশ জুড়ে তুলেছে আলোড়ন। (Sajid Rashidi)অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি একটি ভাইরাল ভিডিওতে বলেছেন, দলিত, শিখ, ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
sajid-rashidi-viral-video-controversy

নয়াদিল্লি: মাওলানা সাজিদ রশিদির একটি বিতর্কিত বক্তব্য সারা দেশে দেশ জুড়ে তুলেছে আলোড়ন। (Sajid Rashidi)অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি একটি ভাইরাল ভিডিওতে বলেছেন, দলিত, শিখ, বৌদ্ধ এবং লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়কে হিন্দুদের থেকে আলাদা করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা চলছে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ ছড়িয়েছে।লিঙ্গায়তরা কর্ণাটকসহ দক্ষিণ ভারতে শিবের কঠোর ভক্ত হিসেবে পরিচিত। তাঁরা ‘লিঙ্গ’ ধারণ করে শিবভক্তির অনন্য ঐতিহ্য বহন করেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যাঁরা শিবভক্তিতে এতটাই নিবেদিত, তাঁদের ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে বলা হচ্ছে।

   

দলিত, শিখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়কেও হিন্দু পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।রাজনৈতিক নেতারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের কথাবার্তা দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নষ্ট করার অপচেষ্টা। লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা হিন্দু সনাতন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না।

আরও দেখুনঃ এবার ‘বেসুরো’ অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী! শতাব্দী-শুভেন্দুর চা-চক্রে তীব্র জল্পনা

শিখ সম্প্রদায়ের নেতারাও এই মন্তব্যকে অসম্মানজনক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৌদ্ধ ও দলিত সংগঠনগুলোও একই সুরে কথা বলছে। তাঁরা মনে করেন, এই ধরনের বিভেদমূলক বক্তব্য সমাজে অশান্তি ছড়ানোর জন্যই করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা সাজিদ রশিদির বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজেপি নেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা রুখে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ ধরনের বক্তব্য যাতে সমাজে বিষ ছড়াতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি চলছে। রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলের একাংশের মতে মৌলানা সাজিদ রশিদির এই মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তির কথা নয়, এর পেছনে একটি বৃহত্তর এজেন্ডা থাকতে পারে।

হিন্দু সমাজের মধ্যে জাতি-উপজাতির ভিত্তিতে বিভেদ তৈরি করে দুর্বল করার চেষ্টা অনেক আগে থেকেই চলছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই ধরনের ষড়যন্ত্র স্পষ্টভাবে চিনতে পারছে। লিঙ্গায়তদের মতো শক্তিশালী সম্প্রদায়কে হিন্দু পরিচয় থেকে আলাদা করার চেষ্টা যে বাস্তবে অসম্ভব, তা সকলেই জানেন।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google