সাহারানপুর: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ফের একবার সামনে এল মাদ্রাসা অত্যাচারের ঘটনা। (child assault)একটি মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক নিরীহ শিশুর উপর চালানো নৃশংস অত্যাচারের ঘটনা সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। একজন মৌলানা শিশুটির পা দুটো শক্ত করে ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখেন, আর আরেকজন লাঠি দিয়ে এক নাগাড়ে ৩৬ বার শিশুটিকে প্রহার করেন। শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে থাকলেও নির্মম মৌলানা থামেননি।
মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩৬টি আঘাত এই ভয়ংকর দৃশ্যের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পুরো দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়।ঘটনাটি ঘটেছে সাহারানপুর জেলার গাঙ্গোহ এলাকার একটি মাদ্রাসায়। শিশুটি সেখানে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। কোন ছোটখাটো ভুলের জন্য এমন নৃশংস শাস্তি দেওয়া হয়েছে, কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, শিশুটির শরীর কাঁপছে, গলা ফেটে যাচ্ছে কান্নায়। চারপাশে অন্য শিশুরাও ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আরও দেখুনঃ আহত, তাই আমি বিপজ্জনক’! পদ যেতেই বিদ্রোহী রাঘব চাড্ডা, একহাত আপ
এই নিষ্ঠুর দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার নামে এ কেমন বর্বরতা? শিশুদের শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, আর এমন নৃশংসতা তো একেবারেই অমানবিক। এর আগেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরণের মাদ্রাসায় শিশুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা নেয়।
গাঙ্গোহ থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং অভিযুক্ত দুই মাওলানা জুনেদ ও শোয়েবকে শনিবার সকালেই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা ছাড়াও শিশু সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনেকেই মন্তব্য করেছেন এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও মাদ্রাসায় পড়ানোর নাম করে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের উদাহরণ সামনে এসেছে। অনেক অভিভাবক এখন প্রশ্ন তুলছেন তাঁদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠিয়ে কি ঠিক করছেন? শিক্ষা দেওয়ার নামে যদি এমন নির্যাতন চলে, তাহলে শিশুদের ভবিষ্যৎ কোথায়?



















