নয়াদিল্লি: আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভার উপনেতার পদ থেকে অপসারিত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন রাঘব চাড্ডা। শনিবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তায় দলের আনা তিন বড় অভিযোগের কড়া জবাব দিলেন এই তরুণ সাংসদ। রাঘবের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একটি ‘সাজানো প্রচার’ বা ‘স্ক্রিপ্টেড ক্যাম্পেন’ চালানো হচ্ছে। মিথ্যে অভিযোগগুলি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পাওয়ার আগেই তাঁর মুখ খোলা জরুরি ছিল।
কী কী অভিযোগ আপের?
শুক্রবার আপের সর্বভারতীয় মিডিয়া চিফ অনুরাগ ধান্দা রাঘবকে নিশানা করে বলেন, “গত কয়েক বছরে তুমি ভীত হয়ে পড়েছো। মোদীর বিরুদ্ধে কথা বলতে বা দেশের আসল সমস্যাগুলি তুলে ধরতে ভয় পাচ্ছো।” এছাড়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই না করা এবং সংসদে জাতীয় ইস্যুর বদলে ‘সিঙারা’ নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
রাঘবের পালটা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ Raghav Chadha AAP controversy
নিজের ভিডিও বার্তায় রাঘব আপের এই আক্রমণকে পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাঘব চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, তিনি বিরোধীদের ওয়াকআউটে সমর্থন করেননি, এমন একটি উদাহরণ অন্তত দল দেখাক। তিনি আরও বলেন, “এটি ডাহা মিথ্যা। সংসদে চারদিকে সিসিটিভি আছে, যে কেউ চেক করে উত্তর পেয়ে যেতে পারেন।”
ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই না করার প্রসঙ্গে সাংসদের পাল্টা প্রশ্ন, “আপের ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদ আছেন। তাঁদের মধ্যে ৬-৭ জন এই প্রস্তাবে সই করেননি। তাহলে শুধুমাত্র আমাকেই কেন কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে?”
সংসদে সিঙারা নিয়ে চর্চার জবাবও দিয়েছেন রাঘব৷ আর-এর অভিযোগ নস্যাৎ করে রাঘব বলেন, “আমি সংসদে জনগণের কথা বলতে এসেছি, অকারণে হইহট্টগোল করতে নয়।” দিল্লির দূষণ, সরকারি স্কুলের বেহাল দশা, পাঞ্জাবের সমস্যা এবং রেল যাত্রীদের নিয়ে তিনি যে বারবার সরব হয়েছেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন চাড্ডা৷
‘আহত বলেই আমি ঘাতক’
সবশেষে বলিউড থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’-এর সংলাপ আউড়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন রাঘব। তিনি বলেন, “ঘায়েল হুঁ, ইসলিয়ে ঘাতক হুঁ (আমি আহত, তাই আমি বিপজ্জনক)।”
কেন অপসারিত রাঘব?
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় আপের উপনেতার পদ থেকে রাঘবকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবগারি দুর্নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া ক্লিনচিট পাওয়ার পরেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে রাঘব নীরব ছিলেন। দলের প্রতি তাঁর এই দূরত্ব এবং উদাসীনতার কারণেই তাঁকে পদ খোয়াতে হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















