অযোধ্যা: রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে বড়সড় সাফল্য মিলেছে৷ রবিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের বাড়িতে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা, সোনার গয়না এবং একাধিক সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের বিভিন্ন বাড়িতে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত টিনুর বাড়ি থেকে গয়না ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের বাড়ি থেকেও বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তল্লাশির সময় অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আপাতত অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হচ্ছে না। পরিবর্তে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির করিয়ে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল না করার ভাবনা আইনজীবীদের
এদিকে এই মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে সওয়াল না করার বিষয়টি নিয়ে অযোধ্যার আইনজীবী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকা মিশ্র জানান, সোমবার সাধারণ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব না করার বিষয়ে মতামত দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে রাম মন্দিরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষেও অযোধ্যার আইনজীবীদের একাংশ আদালতে দাঁড়াতে অস্বীকার করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে উঠছে আবেদন
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া একটি আবেদন সোমবার সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনকারীর আইনজীবী অজয় কুমার রাই আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির আবেদন জানাতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
এসআইটি রিপোর্টের পর গ্রেফতার আট
বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর রিপোর্টে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এই মামলায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের মধ্যেই শুক্রবার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন।
তবে উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আইনত অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে, দোষী নয়।



