জয়পুর: দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা ও আন্দোলনের অবসান ঘটতে চলেছে। (Rajasthan)যমুনা নদীর জলের ন্যায্য অংশ অবশেষে পেতে চলেছে রাজস্থান। ১৯৯৪ সালের চুক্তি অনুসারে রাজস্থান তার নির্ধারিত জলের ভাগ পাবে বলে জানা গেছে। আগামী ২৯ জুন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উপস্থিতিতে এই নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার নেতৃত্বে রাজস্থান সরকার এই দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে বলে রাজ্যজুড়ে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব রাজস্থানের শুষ্ক অঞ্চলের কৃষকরা এই খবরে আনন্দিত। দীর্ঘদিন ধরে জলের অভাবে যেখানে ফসল নষ্ট হত, সেখানে এখন নতুন আশার আলো দেখছেন তাঁরা।১৯৯৪ সালের যমুনা জলবণ্টন চুক্তিতে রাজস্থানকে ৫৬০ কিউসেক জলের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির মধ্যে জলের ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতায় রাজস্থান বছরের পর বছর বঞ্চিত হয়ে আসছিল। রাজ্যের কৃষকরা বারবার আন্দোলন করেছেন, সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা কেন্দ্রের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে এই ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন।রাজস্থানের জলসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “এটি শুধু একটি চুক্তি নয়, এটি রাজস্থানের লড়াকু মানুষের জয়।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা জলের জন্য কাতর ছিলাম। এখন কৃষি, পানীয় জল এবং শিল্পের উন্নয়নে এই জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।” পূর্ব রাজস্থানের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে ভরতপুর, ধৌলপুর, করৌলি এবং সওয়াই মাধোপুরে কৃষকরা এই জলের অপেক্ষায় ছিলেন। সেখানে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন। এই চুক্তির ফলে সেচ প্রকল্পগুলো নতুন করে সক্রিয় হবে এবং হাজার হাজার হেক্টর জমিতে নিয়মিত সেচের সুবিধা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেছেন, “রাজস্থান কখনো জলের লড়াইয়ে পিছু হটেনি। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে, অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই সমস্যার সমাধান করেছি। ২৯ জুনের চুক্তির পর জলের বণ্টন শুরু হবে।” রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলো এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। একজন কৃষক নেতা বলেন, “৩২ বছর ধরে আমরা আন্দোলন করেছি। অনেক নেতা এসেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ভজনলালজি প্রথম যিনি সত্যি সত্যি এই সমস্যা সমাধান করলেন। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা আর জলের জন্য কাঁদবে না।”


