নয়াদিল্লি: একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা (land encroachment)দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় রেলওয়ের মোট ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। এই পরিমাণ জমি আয়তনে প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সমান! আরও সহজ ভাষায় বললে, এটি প্রায় ১,৪৯৬টি ফিফা স্ট্যান্ডার্ড ফুটবল মাঠের সমতুল্য।
অথচ গত পাঁচ বছরে রেল কর্তৃপক্ষ মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি উদ্ধার করতে পেরেছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।রেলওয়ে ভারতের মেরুদণ্ড। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে যাতায়াত করেন। কিন্তু যখন রেলের নিজস্ব জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যায়, তখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের পথও বাধাগ্রস্ত হয়।
আরও দেখুনঃ সীমান্তে নজরদারির নতুন অস্ত্র, স্যার ক্রিকে হাই-স্পিড কমব্যাট বোট নামাচ্ছে ভারত
অবৈধ দখলের কারণে নতুন লাইন সম্প্রসারণ, স্টেশন উন্নয়ন, ফ্রেইট করিডোর নির্মাণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে থাকে। শহরাঞ্চলে স্লাম, দোকানপাট, বাড়িঘর আর গ্রামাঞ্চলে চাষাবাদ কিংবা অন্যান্য ব্যবহারে রেলের জমি চলে যাচ্ছে বছরের পর বছর।সূত্র অনুসারে, সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পূর্ব রেলওয়ে জোনগুলোতে। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে রেলের জমির ওপর অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে।
কোথাও কোথাও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠনের ছত্রছায়ায় এই দখল দীর্ঘদিন ধরে চলছে। রেল মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা চললেও আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে উদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। গত পাঁচ বছরে উদ্ধারকৃত ৯৮ হেক্টর জমির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ছোট ছোট অংশ। বড় বড় দখল উদ্ধারে সাফল্য খুবই কম।
আরও দেখুনঃ আর চলবে না কমিউনিস্টদের দাদাগিরি! সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত চৌম্বকক্ষেত্রে ভারত বানাল ইলেকট্রিক মোটর
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি উদ্ধার না করতে পারলে রেলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বড় ধাক্কা খাবে। উদাহরণস্বরূপ, ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর প্রকল্পের কাজ অনেক জায়গায় আটকে আছে দখলদারদের কারণে। ফলে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হয়, অর্থনীতির ক্ষতি হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। যাত্রীসেবাও প্রভাবিত হয়। নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকি বাড়ে।
অবৈধ বসতির কারণে ট্র্যাকের কাছাকাছি মানুষজনের চলাচল বেড়ে যায়, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি এক বৈঠকে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা স্থানীয় প্রভাবকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।” রেলওয়ে বোর্ড ইতিমধ্যে সব জোনকে নির্দেশ দিয়েছে দখল চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।
আরও দেখুনঃ এবার লাদাখকে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার নতুন ভাবনা শাহের!




