
পুনে: বাংলার আবহ এবার গেরুয়া রাজ্য মহারাষ্ট্রেও। (Pune)SIR এ নাম কাটা যাওয়ার প্রতিবাদে মালদার কালিয়াচকে ঘটে যাওয়া অশান্তির ছায়া এবার পুনেতে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী উচ্ছেদে এসে বিপদের মুখে পুলিশ এবং নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছে পুনের একটি এলাকায়, যেখানে পুনে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (PMC) ও পুলিশের যৌথ দল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সরানোর কাজ করছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান শুরু হয়। কিন্তু কাজ শুরু হতেই একদল লোক জড়ো হয়ে পুলিশ টিমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পাথর ছুড়তে থাকে এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। ফলে একাধিক পুলিশ অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মী আহত হন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
আরও দেখুনঃ মেখলিগঞ্জ সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে বিএসএফ-বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ, উদ্ধার কৃষক
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনতা চিৎকার করে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এবং অভিযান বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। আক্রমণকারীদের একটি বড় অংশকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানটি আদালতের নির্দেশ বা নাগরিক অভিযোগের ভিত্তিতে চালানো হয়েছিল, কিন্তু কিছু লোক তা মেনে নিতে পারেনি এবং হিংসার পথ বেছে নিয়েছে।
মালদার কালিয়াচকের ঘটনার সঙ্গে এর সাদৃশ্য অনেকের নজরে এসেছে। সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়ার প্রতিবাদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘিরে রাখা হয়েছিল, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন পুনেতেও অবৈধ অতিক্রমণ সরানোর মতো একটি প্রশাসনিক কাজকে কেন্দ্র করে হিংসা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই বলছেন, “গেরুয়া রাজ্যেও কালিয়াচক মডেল!” অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে যেখানে বিজেপি-শিবসেনা জোটের প্রভাব বেশি, সেখানেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
আহত পুলিশ কর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “অবৈধ দখলদারি সরাতে গেলে পুলিশকে কেন আক্রমণের শিকার হতে হয়? আইনের শাসন কোথায়?”

