নয়াদিল্লি: ফের বিস্ফোরক মাদানি। জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি (Arshad Madani)ফের বিস্ফোরক বক্তব্যে আলোড়ন তুলেছেন। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “মুসলিম আর হিন্দু সবাই সমান। লক্ষ লক্ষ হিন্দু তাদের সম্পত্তি-ধন নিয়ে তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, কানাডা বা ব্রিটেনে চলে যাচ্ছে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে। এটা নিয়ে ভাবার বিষয়।”
তিনি আরও বলেছেন “এ দেশ আমাদের, এখানেই জন্মেছি, সম্ভবত এখানেই মরব আর কবর হবে। তাহলে কেন মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে? সরকারকে অবশ্যই তাদের থামাতে হবে। আমাদের দেশে মুসলিমদেরও খুন করা হচ্ছে, বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। নিজের দেশে অ্যান্টি-ন্যাশনাল বলা হচ্ছে, বুলডোজার চালানো হচ্ছে এখানে মুসলিমরা কীভাবে বাঁচবে?”
লাদাখকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বানাতে চেয়েছিলেন ওয়াংচুক! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক কেন্দ্র
এই বক্তব্যে মাদানি দাবি করেছেন যে ভারত সবার দেশ, কিন্তু সংখ্যালঘুদের উপর চাপ বাড়ছে। তিনি হিন্দুদের বিদেশে যাওয়ার উদাহরণ টেনে বলেছেন যে অর্থনৈতিক সুযোগের জন্য যদি হিন্দুরা চলে যেতে পারে, তাহলে মুসলিমদের অবস্থা আরও খারাপ। তাঁর অভিযোগ, দেশে মুসলিমদের খুন, বাড়ি-দোকানে আগুন, বুলডোজার অ্যাকশন, অ্যান্টি-ন্যাশনাল তকমা এসবের কারণে জীবন অসহনীয় হয়ে উঠছে। জমিয়তের এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলে আসছেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে তিনি ক্ষুব্ধ।
তবে মাদানির এই মন্তব্যের পরে রাজনৈতিক মহল ফের সরগরম। বিজেপি নেতারা বলছেন, মাদানি দ্বিচারিতা করছেন, তিনি মুসলিমদের হয়ে অভিযোগ করছেন আবার হিন্দুদের বিদেশ যাওয়াকে সরকারের দোষ দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, ভারতে হিন্দুরা অর্থনৈতিক কারণে বিদেশে যান, কোনও ধর্মীয় নির্যাতনের জন্য নয়।
অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনগুলি মাদানির কথাকে সমর্থন করছে। তারা বলছে, বুলডোজার রাজনীতি, গণহত্যা, ওয়াকফ সম্পত্তি দখল এসব সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের উপর আঘাত। মাদানির কথায়, সরকার যদি হিন্দুদের দেশ ছাড়া আটকাতে পারে তাহলে মুসলিমদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করুক।
আরশাদ মাদানি জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু অধিকারের লড়াই করছেন। সম্প্রতি তিনি আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি ও আজম খানের মামলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে মুসলিমদের মাথা তোলা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেছেন, বিদেশে মুসলিমরা মেয়র হচ্ছেন, কিন্তু ভারতে ভাইস চ্যান্সেলরও হতে পারছেন না। এই বক্তব্যগুলি রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, মাদানির কথা বিভাজনকারী, ভারত সবার জন্য নিরাপদ।




















