
নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। নেপথ্যে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিচারণমূলক বই। সোমবার লোকসভায় সেই বইয়ের কিছু অংশ তুলে ধরে মোদী সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যা নিয়ে সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে এবং দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
বইটিতে কী লিখেছেন জেনারেল নারাভানে?
জেনারেল নারাভানের এই অপ্রকাশিত বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৬ জুন দিনটি চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কখনোই ভুলবেন না। কারণ, কয়েক দশকের মধ্যে সেবারই প্রথম চিনা ফৌজ (PLA) ভারতীয় সেনার হাতে চরম মার খেয়েছিল এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ১৬ জুন ছিল শি জিনপিংয়ের জন্মদিন। নারাভানে লিখেছেন, “এটি এমন একটি দিন যা তিনি (জিনপিং) সহজে ভুলবেন না। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার চিনা সেনাবাহিনী এতোটা প্রাণহানির শিকার হয়েছিল।”
সংসদে রাহুল বনাম রাজনাথ China Will Not Forget June 16
এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পাল্টা দিতে গিয়েই জেনারেল নারাভানের বইয়ের প্রসঙ্গ টানেন রাহুল। রাহুল দাবি করেন, ওই বইয়ে গালওয়ান নিয়ে সরকারের অস্বস্তিকর কিছু সত্য রয়েছে।
এর প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে বইটি এখনও প্রকাশিতই হয়নি, তা নিয়ে রাহুল গান্ধী কীভাবে সংসদে আলোচনা করতে পারেন? রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদকে বিভ্রান্ত করছেন। পাল্টা রাহুল বলেন, তিনি একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই বইয়ের অংশ বিশেষ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন এবং তার কাছে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে।
রিজিজুর অভিযোগ
সরকারের পাল্টা আক্রমণ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সেনাবাহিনীর মানহানি করছেন এবং সংসদীয় নিয়ম মানছেন না। অন্যদিকে, বিজেপি সূত্র থেকে দাবি করা হয় যে রাহুল গান্ধী চীন ইস্যুতে ‘বানানো গল্প’ পড়ছেন। জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি দাবি করে, অতীতে নেহরুই হাজার হাজার একর জমি চিনকে ‘উপহার’ দিয়েছিলেন।
বিরোধী শিবিরের সমর্থন রাহুল গান্ধীকে সমর্থন জানান সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেতারা। হট্টগোলের জেরে স্পিকার ওম বিড়লা বারবার অধিবেশন মুলতুবি করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় দিনের মতো লোকসভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকা নারাভানের এই বই নিয়ে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, সোমবারের সংসদীয় চিত্র তারই ইঙ্গিত দিল।












