মুজাফ্ফারাবাদ: পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (pok) এখন উত্তাল। রাস্তায় রাস্তায় হাজারো মানুষের জমায়েত, পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস আর গুলির আওয়াজ। যা শুরু হয়েছিল মূল্যবৃদ্ধি, রেশন-বিদ্যুতের সংকট নিয়ে, তা এখন পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষের আগুনে। প্রতিবাদকারীরা সরাসরি বলছেন ‘তোমরা আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাও। আমাদের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে, তোমাদের সঙ্গে নয়।’
🚨 Explosive scenes from the ongoing PoJK protests…🔥
“They (🇵🇰) say they won’t let rations and food enter PoJK. There are other(🇮🇳) trade routes too. We will open all of them. We throw your subsidies back in your face. Get out our land. It is a matter between us and India,… pic.twitter.com/LFTTQ57AMd
— OsintTV 📺 (@OsintTV) June 19, 2026
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজিত জনতা চিৎকার করে বলছেন, “তারা (পাকিস্তান) বলছে রেশন-খাবার ঢুকতে দেবে না। অন্য ট্রেড রুট আছে ভারতের সঙ্গে। আমরা সব খুলে দেব। তোমাদের সাবসিডি মুখে ছুড়ে মারি। আমাদের জমি থেকে বেরিয়ে যাও। এটা আমাদের আর ভারতের মধ্যে ব্যাপার, পাকিস্তানের নয়।” স্লোগান উঠছে ‘হাম জানে, হিন্দুস্তান জানে জম্মু কাশ্মীর জানে’। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ সীমান্তে ড্রোন হামলা করে পাকিস্তানে রক্তগঙ্গা বইয়ে চরম প্রতিশোধ তালিবানদের!
দীর্ঘদিন ধরে পিওজেকের মানুষ অভিযোগ করে আসছেন যে পাকিস্তান তাদের সম্পদ লুটছে, কিন্তু উন্নয়ন দিচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকট, ময়দার দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অধিকারহীনতা এই ক্ষোভের মূল কারণ। জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর নেতৃত্বে প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বেশ কয়েকটি এলাকায় গুলি চালানো হয়েছে বলে খবর। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে কেউ বলছেন ৩০ জনের বেশি, আহত শতাধিক। ইন্টারনেট-মোবাইল সেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন।প্রতিবাদকারীদের একজন নেতা বলেন, “পাকিস্তান আমাদের রিয়াসত থেকে বেরিয়ে যাক। এটা আমাদের দেশ, আমাদের নদী-পাহাড়।
তোমরা শুধু লুট করতে এসেছ।” অনেকে স্পষ্ট করে বলছেন, যদি পাকিস্তান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আটকে দেয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যপথ খুলে দেওয়া হবে। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও প্রশাসন এই আন্দোলনকে ‘বহিরাগত ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের কণ্ঠে যে ক্ষোভ ফুটে উঠছে, তা দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগের ফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পিওজেকে পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেখানকার মানুষ চান সত্যিকারের অধিকার, উন্নয়ন এবং মর্যাদা।
ভারতের দিক থেকে এই ঘটনা নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, পিওজেকের মানুষের এই আওয়াজ দেখিয়ে দিচ্ছে যে জোর করে কাউকে দখলে রাখা যায় না। প্রতিবাদ চলাকালীন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত, জীবনযাত্রা স্থবির। নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।



