পটনা: বিহারের রাজধানী পটনার কোতোয়ালি থানা চত্বরে (patna)গত প্রায় ৩০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা রাস্তা জুড়ে জুমার নামাজ আর সেখানে হবে না। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় কোতোয়ালি জামে মসজিদ কমিটির মধ্যে আলোচনার পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে থানা চত্বরের রাস্তার পরিবর্তে সংলগ্ন কোতোয়ালি জামে মসজিদের ভেতরেই প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গিয়েছে, কোতোয়ালি থানার একটি নির্দিষ্ট অংশে বহু বছর ধরে প্রতি শুক্রবার কয়েকশো মানুষ একত্রিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করতেন। নামাজের পুরো প্রক্রিয়া সাধারণত প্রায় আধ ঘণ্টা স্থায়ী হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থা চললেও সম্প্রতি এক স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।
আরও দেখুনঃ টেলিগ্রামে ‘পাইরেসির’ রমরমা, কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
বুড্ডা কলোনির এক বাসিন্দা বিহার সরকারের ‘সহযোগ গ্রিভেন্স পোর্টাল’-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি শুক্রবার থানা চত্বরের রাস্তায় বড় সংখ্যক মানুষের জমায়েতের কারণে পুলিশের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে থানায় সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া, অভিযোগ গ্রহণ এবং অন্যান্য সরকারি কাজের ওপর এর প্রভাব পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন পটনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ মুরারী প্রসাদ। কোতোয়ালি থানার কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয় এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের পর পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে কোতোয়ালি জামে মসজিদের ইমাম, মসজিদ পরিচালন সমিতি এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি যৌথ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
আরও দেখুনঃ রামমন্দিরের পর বদ্রীনাথ! প্রণামীর টাকা চুরির অভিযোগ! অস্বস্তিতে মন্দির কমিটি
বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকরা জানান, থানা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়। ফলে প্রতি শুক্রবার বড় জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই কিছু বাস্তব সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁরা প্রস্তাব দেন, থানা চত্বরের পরিবর্তে সংলগ্ন মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজের ব্যবস্থা করা হলে সকলের সুবিধা হবে।
পুলিশের বক্তব্য শোনার পর কোতোয়ালি জামে মসজিদের ইমাম এবং মসজিদ পরিচালন সমিতি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেন। তাঁরা জানান, প্রশাসনিক সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েই থানা চত্বরে নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা সম্মত হয়েছেন। এর ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানও যথাযথভাবে চলবে এবং সরকারি কাজেও কোনও বিঘ্ন ঘটবে না।
এই সমঝোতার পর প্রথমবার থানা চত্বরের ভেতরে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিবর্তে মুসল্লিরা পাশেই অবস্থিত কোতোয়ালি জামে মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে জুমার নামাজ আদায় করেন। গোটা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ জইশ-লস্করের কোমর ভাঙতে কড়া কেন্দ্র, তালিকাভুক্ত ২৩ কুখ্যাত জঙ্গি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ও ব্যাখ্যা সামনে এলেও প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনও নিষেধাজ্ঞা বা একতরফা সিদ্ধান্ত নয়। বরং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা হয়েছে।


