পাটনা: বিহারের পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদবকে (Pappu Yadav) গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পাটনার মন্দিরি এলাকার তাঁর বাসভবনে অভিযান চালিয়েছে বিহার পুলিশ। আদালতের পক্ষ থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির নির্দেশ জারির মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এবং স্থানীয় এলাকায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই মামলা নতুন নয়। সূত্র অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। সেই সময় পাটনার গর্দানিবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগকারী বিনোদ বিহারী লালের দাবি, তাঁর বাড়ি ভাড়ার নামে নেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে সাংসদের দফতর পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, লিজের সময় এই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন :
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত আগেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে একাধিকবার নির্দেশ সত্ত্বেও অভিযুক্তরা আদালতে হাজির না হওয়ায় পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় নোটিস টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশও কার্যকর না হওয়ায় আদালত সম্প্রতি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চূড়ান্ত আদেশ জারি করে।
এই প্রেক্ষাপটেই পুলিশ পাপ্পু যাদবের বাসভবনে পৌঁছায়। অভিযানের সময় তিনি পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, আদালতের পক্ষ থেকে আগেই হাজিরার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তা সত্ত্বেও হঠাৎ এই পদক্ষেপ কেন নেওয়া হলো, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন :
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একাধিক পোস্টে পাপ্পু যাদব দাবি করেন, তিনি ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপস করবেন না। তিনি আরও বলেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি চাপে রয়েছেন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি চুপ থাকবেন না এবং আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এটি কোনও বিশেষ অভিযান নয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মমাফিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনও রকম বাড়াবাড়ি বা বেআইনি কাজ করা হয়নি বলেও পুলিশ দাবি করেছে।
বর্তমানে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের অধীন রয়েছে। পরবর্তী শুনানি ও আইনগত প্রক্রিয়ার উপরেই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ। গোটা ঘটনার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।




















