
ইসলামাবাদে আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান এখন চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বৈঠকটি শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না এবং ইতিমধ্যেই দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি, যদিও গত দুই সপ্তাহ আগে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান একটি বড় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ইরানি প্রতিনিধি দলের নিরাপদ যাতায়াত ও তাদের বিমান সুরক্ষিত রাখা, বিশেষ করে সম্ভাব্য যেকোনো “অপ্রত্যাশিত হামলা” বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে তাদের রক্ষা করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাকিস্তান এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শান্তিকালীন বিমান অভিযানে যুক্ত হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান বিমানবাহিনী (PAF) এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান, C-130 পরিবহন বিমান, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং AWACS নজরদারি বিমান মোতায়েন করেছে। এই বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকে “Iron escort” বা লৌহবর্মিত নিরাপত্তা বলয় হিসেবে বর্ণনা করছেন। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ছাতা তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
ইসলামাবাদের ওপর এখন আন্তর্জাতিক নজর অত্যন্ত বেশি। কারণ এই আলোচনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের ভূমিকা এখানে শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং একটি নিরাপদ ভেন্যু ও ট্রানজিট হাব হিসেবে কাজ করা। ফলে দেশটির ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান এই বৈঠকের সফলতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল, পাকিস্তান চীনসহ অন্যান্য কূটনৈতিক অংশীদারদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থাপন করতে সক্ষম হয় বলে দাবি করা হয়। সেই সংঘাতে এক মাসের মধ্যে ২,০০০-এর বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে তেহরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই যুদ্ধবিরতির পর এখন লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।

