নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ের সেই ভয়াল দিনটির আজ এক বছর পূর্ণ হল। (Pahalgam attack)গত বছর ২২ এপ্রিল, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈসারান মেডো যেখানে সবুজ ঘাস, পাইন বন আর হিমালয়ের সৌন্দর্য মিলেমিশে এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে সেখানেই ঘটে গিয়েছিল এক নৃশংস জঙ্গি হামলা। তিনজন সশস্ত্র জঙ্গি এসে নিরীহ পর্যটকদের ওপর গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে ২৬ জন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়।
তাদের মধ্যে ২৫ জন ছিলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা হিন্দু পর্যটক, আর একজন ছিলেন স্থানীয় মুসলিম ঘোড়াওয়ালা, যিনি জঙ্গিদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই হামলায় আরও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিলেন।এক বছর পর, ২২ এপ্রিল ২০২৬-এ, ভারত সেই শহীদদের স্মরণ করছে গভীর শ্রদ্ধায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সবাই শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আরও দেখুনঃ বুধবার সস্তা হল সোনা, ২২ ও ২৪ ক্যারেটে বড় পরিবর্তন কলকাতায়
কিন্তু এই স্মরণের মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসরায়েলের তরফ থেকে আসা সংহতি। ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছেন, “আজ ভারত পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্ণ করছে, যেখানে ২৬ জন নিরীহ প্রাণ হারিয়েছে। আমরা স্মরণ করছি। ইসরায়েল ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসঙ্গে আছে।”
রাষ্ট্রদূত আজার আরও বলেছেন, “সন্ত্রাসের কোনো সীমানা নেই।” তিনি এই হামলাকে ‘পাকিস্তান-প্রায়োজিত সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এই বার্তা শুধু কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্কের প্রতিফলন। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার, আর ভারতও কাশ্মীরে বছরের পর বছর ধরে এই যন্ত্রণা সহ্য করছে।
দুই দেশের এই যৌথ অবস্থান অনেকের কাছেই আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।হামলার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তৈয়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। পরে তারা অস্বীকার করলেও, ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) স্পষ্ট করে বলেছে এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির হাত ছিল।
পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর ভারত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের বিতাড়ন, ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত, আকাশপথ বন্ধ সব মিলিয়ে একটা দৃঢ় বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মতো অভিযান চালিয়ে জড়িতদের অনেককে ধরে ফেলেছে।




















