Operation Lotus: ভরসা নেই মমতার ক্ষমতায়, সরকার বাঁচাতে ছত্তিসগড় বাছলেন হেমন্ত সোরেন

ঝাড়খন্ডের পর বাংলা হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার মন্তব্যে ছিল ইঙ্গিত

অপারেশন লোটাস (Operation Lotus) হবেই এমনটা আঁচ করে নিয়েছেন ঝাড়খন্ডের (Jharkhand) মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। সরকার বাঁচাতে বিধায়কদের কংগ্রেস শাসিত ছত্তিসগড়ে (Chattisgarh) পাঠালেন তিনি। রাঁচি থেকে বিশেষ বাসে যাচ্ছেন বিধায়করা। এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল প্রতিবেশি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে জেএমএম ও কংগ্রেস বিধায়কদের। তবে মমতা (Mamata Banerjee) সরকারের উপর তেমন ভরসা করলেন না হেমন্ত সোরেন।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিপুল টাকা সহ ধরা পড়েছেন ঝাড়খন্ডের তিন কংগ্রেস বিধায়ক। এর পর তাঁদের বয়ান ঘিরে সন্দেহ তীব্র হয়। ঝাড়খন্ডেরই কংগ্রেস বিধায়ক কুমার জয়মঙ্গল সিং থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর থেকে স্পষ্ট হয় ঝাড়খন্ডে সরকার ফেলতে বিপুল অর্থ দিয়ে বিধায়কদের কেনার ছক করেছিল বিজেপি। কলকাতায় চলছিল কষাকষি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এতে জড়িত। অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি তদন্ত শুরু করে। অসম ও দিল্লিতে তদন্ত করতে গিয়ে বাধা পায়।

   

আর ঝাড়খণ্ড জুড়ে অভিযানে বিধায়কের বাড়িতে একে ৪৭ উদ্ধার, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অফিস অফ প্রফিট অভিযোগে বিধায়ক পদ খারিজে রাজ্যপালের ততপরতা ঘিরে অপারেশন লোটাস বিতর্ক আরও জমাট হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা ভেঙে সরকার পক্ষের বিধায়কদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেন হেমন্ত সোরেন।

সূত্রের খবর, হেমন্ত সোরেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যে চিন্তিত। মহারাষ্ট্রে সরকার বদলের সময় শুভেন্দু বনেছিলেন এরপর ঝাড়খন্ড তারপর বাংলা। শুভেন্দু অধিকারীর সেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে সরগরম হয়েছিল রাঁচির রাজনীতি। রাজনৈতিক মহল গরম হয়েছিল ঝাড়খন্ডে নির্বাচিত অ-বিজেপি সরকার ফেলার ইঙ্গিতে। গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি বলছে ঝাড়খন্ডে অপারেশন লোটাস শুরু হয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে বিধায়ক পদের ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করতে চলেছেন রাজ্যপাল রমেশ ব্যাস। নিজের নামে খনি লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে। এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের অভিযোগ, মন্ত্রীপদে থাকাকালীন এই কাজ করেছেন হেমন্ত নিজে।সূত্রের খবর, সংবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজই সিলবন্দি খাম খুলতে চলেছেন রাজ্যপাল।

একনজরে ঝাড়খন্ড বিধানসভা

মোট ৮১ আসন
৪৯ টির দখলে শাসক মহাজোট শিবির। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার রয়েছে ৩০ টি আসন, কংগ্রেসের ১৮ টি এবং আরজেডির আসন সংখ্যা ১ টি। (কংগ্রেসের তিন বিধায়ক সাসপেন্ড) বিরোধী বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২৬ জন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন