ভুবনেশ্বর: ওড়িশার কান্ধমাল জেলার গভীর জঙ্গলে শুরু হয়েছে বড়সড় সাঁড়াশি অভিযান (Maoist operation)। লক্ষ্য একটাই রাজ্যে বামপন্থী উগ্রপন্থা বা লেফট উইং এক্সট্রিমিজম (এলডব্লিউই)-এর প্রভাব সম্পূর্ণ নির্মূল করা এবং শীর্ষ মাওবাদী নেতা সুক্রু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের গ্রেফতার বা নিকেশ করা। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন ওড়িশা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল ওয়াই বি খুরানিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই কান্ধমাল ও সংলগ্ন জেলাগুলির জঙ্গলে মাওবাদীদের আনাগোনা বাড়ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, শীর্ষ মাওবাদী নেতা সুক্রু সম্প্রতি ওই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছেন এবং সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে।
ডিজিপি খুরানিয়া জানান, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি), জেলা ভলান্টারি ফোর্স এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চলছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঘন জঙ্গলের কারণে অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও বাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুত। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন নজরদারি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্যে জঙ্গলের ভেতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা জঙ্গলে না যান এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ওড়িশা সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই কমেছে। কিন্তু কান্ধমাল, মলকানগিরি ও কোরাপুটের কিছু দুর্গম এলাকায় এখনও বিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে মাওবাদী গোষ্ঠীগুলি। সুক্রু দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা, অস্ত্র পাচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযান সফল হলে ওড়িশায় এলডব্লিউই প্রভাব প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে। তবে জঙ্গলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং মাওবাদীদের গেরিলা কৌশল অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।
ডিজিপি খুরানিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যে উগ্রপন্থার কোনও স্থান নেই। উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা যেমন চলছে, তেমনি সশস্ত্র চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানও বজায় থাকবে। এখন দেখার, এই অভিযানে কত দ্রুত সাফল্য আসে এবং সুক্রুকে গ্রেফতার করা যায় কি না। আপাতত কান্ধমালের জঙ্গলজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা তুঙ্গে।




















