কলকাতা: দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে এবার গুরুতর প্রশ্ন তুললেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। শনিবার সকালে যন্তর মন্তর থেকে পুলিশি হস্তক্ষেপে সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, পরিবারের সম্মতি ছাড়া কোনো চিকিৎসা চালানো যাবে না।
রিপোর্টের গরমিল নিয়ে সন্দেহ
একটি ভিডিও বার্তায় গীতাঞ্জলি দাবি করেছেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে সোনমের শারীরিক পরীক্ষার যে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, তাতে গরমিল রয়েছে। তিনি বলেন, “হাসপাতাল থেকে আমাদের কোনো রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকরা পটাশিয়াম লেভেল ২.৯ হওয়ার কথা বলছেন, অথচ গতকালই তা ৪.৩ ছিল। একদিনে এত বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।” রিপোর্ট না মেলায় বাইরের কোনো ল্যাবে পরীক্ষা করানোর পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।
হাইকোর্টের নির্দেশের অপব্যাখ্যা?
পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সোনমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু গীতাঞ্জলি এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “হাইকোর্ট বলেছিল কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। আদালত কোথাও হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেয়নি।” তিনি আরও জানান, সোনম এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, কোনো ধরণের চিনি বা পুষ্টিকর পানীয় তিনি গ্রহণ করছেন না, শুধু নুন-জল খাচ্ছেন।
চিকিৎসায় কঠোর বিধিনিষেধ
হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে গীতাঞ্জলির সাফ হুঁশিয়ারি, পরিবারের সম্মতি এবং এতদিন যে চিকিৎসকরা সোনমের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাঁদের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা যেন না দেওয়া হয়। তিনি জানান, শুক্রবার পর্যন্ত সোনম সুস্থই ছিলেন, তাঁকে হাসপাতালে আনার কোনো প্রয়োজন ছিল না। যদিও গীতাঞ্জলি স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিনের অনশনে সোনমের ওজন কমেছে এবং শরীর দুর্বল হয়েছে, তবে মানসিকভাবে তিনি যথেষ্ট সতর্ক ও শক্তিশালী রয়েছেন।
পুলিশ বনাম আন্দোলনকারী
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশ মেনে ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা’র জন্যই সোনমকে সরানো হয়েছে। তবে সোনমকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি সিজেপি (CJP)-র সংসদ অভিযানের মাত্র দুই দিন আগে হওয়ায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী মহল। হাইকোর্টের আগের নির্দেশ ছিল, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অমূল্য এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু সেই নজরদারির প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবারের এই অসন্তোষ পুরো ঘটনাটিতে নতুন মোড় নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২১ দিন ধরে চলা অনশনে সোনম ৯ কেজির বেশি ওজন হারিয়েছেন বলে চিকিৎসকদের রিপোর্টে জানা গিয়েছিল। এখন দেখার, স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সাফাই দেয় কি না।
বঙ্গ জয়ের পুরস্কার? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শমীকের নাম ঘিরে জল্পনা
গরু পাচারকারী সন্দেহে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩০ র আরিফ! জম্মু-কাশ্মীরে বিক্ষোভ-বন্ধ ইন্টারনেট





