নয়াদিল্লিতে (Delhi) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থক ও কর্মীরা যন্তর-মন্তরে জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মিছিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু বিনা উসকানিতেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, (Delhi)সকাল থেকেই যন্তর-মন্তর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং মিছিলের রুটেও কড়া নজরদারি চালানো হয়। প্রতিবাদকারীরা জমায়েত শুরু করতেই পুলিশ তাদের এগোতে বাধা দেয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকালেই যন্তর-মন্তরে উপস্থিত হন আজাদ সমাজ পার্টি (কাশীরাম)-এর সভাপতি ও সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ। প্রতিবাদ মঞ্চে তাঁকে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে এবং কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যায়। একইসঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত, তাই বলপ্রয়োগের বদলে প্রশাসনের উচিত ছিল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। যদিও আহতের সংখ্যা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে আগেই একাধিক এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। সংসদ চত্বর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।





