কাঠমান্ডু: নেপাল সরকারের একটি নতুন সিদ্ধান্তে দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Nepal)। নেপাল তাদের ১ রুপির মুদ্রায় লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলের মানচিত্র সরিয়ে ফেলেছে। এর বদলে সেখানে বসানো হয়েছে একটি প্রাচীন মঠের ছবি। এই পদক্ষেপকে বিতর্কিত বলে মনে করছে ভারত।
নেপালের বিরোধী দলগুলো এটাকে ‘গুরুতর জাতীয়তাবিরোধী সিদ্ধান্ত’ এবং ‘ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।দীর্ঘদিন ধরে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে ভারত-নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ চলছে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এই অঞ্চলগুলো ঐতিহাসিকভাবে ভারতের অংশ। কিন্তু নেপাল সরকার ২০২০ সাল থেকেই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে এই এলাকাগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।
আরও দেখুনঃ ‘সময় নষ্ট করবেন না!’ সুপ্রিম অর্ডারে খারিজ হল আরশোলাদের লাঠি চালানো পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
এবার সেই দাবিকে মুদ্রায় প্রতিফলিত করার পদক্ষেপ আরও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নেপালি নাগরিকদের দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহৃত মুদ্রায় এই পরিবর্তন জাতীয়তাবাদী আবেগকে উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর ভারত সরকার কড়া জবাব দিয়েছে। মোদী সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, একতরফাভাবে মানচিত্র পরিবর্তন করে ঐতিহাসিক সত্য বদলানো যায় না।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বোঝাপড়া ও ঐতিহাসিক দলিল অনুসারে লিপুলেখ ও কালাপানি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ধরনের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত নেপালের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা খেয়েছে।
বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে তীব্র আক্রমণ করেছে। তাঁরা বলছেন, এটা দেশের ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার প্রতি আঘাত। একজন বিরোধী নেতা বলেন, “ঐতিহাসিক সীমান্ত মুছে ফেলে মঠের ছবি লাগিয়ে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” কেউ কেউ এটাকে চিনের প্রভাব বলেও অভিযোগ তুলেছেন। নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যু এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সাধারণত ঘনিষ্ঠ।
আরও দেখুনঃ আরশোলাদের হাত শক্ত করতে দিল্লির রাস্তায় তলোয়ার নিয়ে নিহঙ্গ শিখরা
খোলা সীমান্ত, সাংস্কৃতিক মিল, অর্থনৈতিক নির্ভরতা সবকিছুই দুই দেশকে আটকে রেখেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে এই ধরনের সীমান্ত বিতর্ক সম্পর্ককে চাপে ফেলে। ভারতের অনেক নাগরিক মনে করেন, নেপালের এই পদক্ষেপ চীনের ইন্ধনে হতে পারে। চিন নেপালকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নেপালের কিছু অংশ মনে করে, ভারত বড় দেশ হিসেবে তাদের স্বার্থ উপেক্ষা করছে।





