মেক ইন ইন্ডিয়ায় নয়া মাইলফলক! ৪০০০০ LMG সেনার হাতে

negev-ng7-lmg-indian-army-delivery-make-in-india-defence

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। (Negev NG7 LMG)সম্প্রতি প্রায় ৪০,০০০ অত্যাধুনিক Negev NG7 লাইট মেশিন গানের প্রথম ব্যাচ ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি দেশের আত্মনির্ভরতার দিকটিও নতুন করে সামনে এসেছে।

ইসরায়েলের নামী প্রতিরক্ষা সংস্থা ইসরায়েল ওয়েপন ইন্ডাস্ট্রি (IWI)র সিইও শুকি শোয়ার্টজ এই ডেলিভারিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, Negev LMG শুধু একটি অস্ত্র নয়, এটি সরাসরি পদাতিক বাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর একটি বড় হাতিয়ার। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা এই তিনটি ক্ষেত্রেই এই অস্ত্র সেনাদের এগিয়ে রাখবে।

   

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে ২০২০ সালে প্রায় ১৬,০০০ LMG সরবরাহ করা হয়েছিল ভারতীয় সেনাকে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুন করে বড় পরিসরে এই অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। শোয়ার্টজের দাবি, আগের ব্যাচ ইতিমধ্যেই কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, ফলে নতুন এই সরঞ্জাম সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়াবে।

তবে এই পুরো প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এখন এই অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎপাদন হচ্ছে ভারতের মাটিতেই। আদানি ডিফেন্স & এয়ারোস্পেস এবং IWI-এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা PLR (Precision, Lethality, and Reliability) প্রকল্পের মাধ্যমে এই উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে শুধু অস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমছে না, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়ার’ উদ্যোগের একটি বাস্তব উদাহরণ, যেখানে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে ভারত নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে, সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এই বিষয়ে শোয়ার্টজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে IWI-এর শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে, যা একদিকে যেমন ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)র প্রয়োজন মেটায়, তেমনই ভারতের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম।

একইসঙ্গে, PLR-কে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে যেকোনও পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়। এই দ্বিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই উদ্যোগ শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।