নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কোনো রাজনৈতিক রং চড়ানোর প্রয়োজন নেই, বরং দেশের নারী শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্ত দলের একজোট হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই ভাষাতেই বিরোধী শিবিরের প্রতি কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যারা এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে, তাদের ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল মাসুল গুনতে হবে।
সংসদে মোদীর ভাষণ
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “নারী শক্তি আজ ক্ষমতায়িত এবং তাঁরা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। দেশের শাসন ব্যবস্থা ও আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় মহিলারা এখন অংশীদার হতে চান।” তাঁর মতে, এই বিলটি কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, এটি নারী ক্ষমতায়নের দিশায় সরকারের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।
কী আছে এই নতুন সংশোধনীতে?
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই সরকার এই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইনটি কার্যকর করতে চাইছে। সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি এদিন লোকসভায় পেশ করা হয়। এই বিলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
বাড়ছে লোকসভার আসন: মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সুবিধার্থে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করা হবে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation): নতুন আদমসুমারির ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন বা সংসদীয় ক্ষেত্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার পরেই এই আসন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রভাব: দিল্লি, পুদুচেরি এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সহ দেশের প্রতিটি রাজ্য বিধানসভাতেও মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
বিরোধীদের আপত্তি ও কংগ্রেসের তোপ
বিজেপি সরকার এই বিল নিয়ে এগোলেও সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সরকার ‘বুলডোজ’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। কংগ্রেসের দাবি, সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে পরবর্তী জনগণনার অপেক্ষা না করে বর্তমান আসন সংখ্যাতেই অবিলম্বে সংরক্ষণ কার্যকর করা হোক।




















