
গুজরাত: গুজরাতের গির সোমনাথ জেলায় ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন। (Somnath Temple)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমনাথ অমৃত মহোৎসব-২০২৬-এর অংশ হিসেবে মন্দিরের ধ্বজা উত্তোলন (ধ্বজারোহণ) অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নেমেছিল। আকাশ যেন রঙিন হয়ে উঠল ভারতীয় বিমানবাহিনীর সূর্যকিরণ অ্যারোব্যাটিক টিমের দুর্দান্ত ফ্লাইপাস্টে।
গগনচুম্বী এই প্রদর্শনীতে গর্ব ও বীরত্বের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটল। ভক্তি ও শক্তির এই আবেগে প্রতিটি হৃদয় আনন্দে ভরে উঠল।প্রধানমন্ত্রী মোদী সোমনাথ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে আজ বিশেষ মহাপূজা, কুম্ভাভিষেক এবং ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মন্দিরের শিখরে ধ্বজা তুলে ধরার মুহূর্তে চারপাশে উঠল জয়ধ্বনি। এরপর তিনি সর্দার বল্লভভাই পটেলের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
আরও দেখুনঃ ক্ষমতা দখলের পরই গরু পাচার ইস্যুতে অ্যাকশন মোডে BJP, জারি একাধিক নির্দেশিকা
সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণে সর্দার পটেলের অবদানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মন্দির শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, বরং ভারতের অবিনাশী আত্মার প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী আক্রমণ সহ্য করেও যে মন্দির আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সেটাই আমাদের সভ্যতার শক্তি।অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর সূর্যকিরণ টিমের এয়ার শো।
হক এমকে-১৩২ বিমান নিয়ে ছয়টি বিমানের দল আকাশে নানা রকমের সুনিপুণ কসরত দেখায়। ত্রিবর্ণের ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় পতাকার রূপ নেয়। মন্দিরের ওপর দিয়ে নিখুঁত ফর্মেশনে উড়ে যাওয়া বিমানগুলি দেখতে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শক মুগ্ধ হয়ে যান। প্রায় ১৫ মিনিটের এই প্রদর্শনীতে আকাশ যেন গর্জে উঠেছিল গর্বে। প্রধানমন্ত্রীও মঞ্চ থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করেন এবং পাইলটদের অভিনন্দন জানান।
সোমনাথ মন্দির ভারতের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। ইতিহাসের পাতায় এর ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের কাহিনি বারবার ফিরে এসেছে। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে পুনর্নির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন হয়। আজ ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই উৎসব আরও মহিমান্বিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে হেলিকপ্টার থেকে ফুলের বৃষ্টিও হয়।
মন্দির চত্বরে ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দা ও তীর্থযাত্রীরা বলছেন, “এমন দিন খুব কমই দেখা যায়। মোদীজির হাতে ধ্বজা উঠতে দেখে মনে হয়েছে সত্যিই দেশ এগিয়ে চলেছে। আর আকাশের সেই বিমানের খেলা তো চোখে লেগে রইবে।” অনেকে এই অনুষ্ঠানকে ‘ভক্তি ও শক্তির মিলন’ বলে বর্ণনা করেছেন। ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জাতীয় গর্বের এই সমন্বয় সত্যিই বিরল।

