প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে (Modi government)দিল্লির রাজপথে হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকেন এই অনুষ্ঠানে। আকাশপথে ফাইটার জেট, হেলিকপ্টারের মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্টও এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
কিন্তু সেই আকাশপথই কখনও কখনও হয়ে ওঠে বড় বিপদের কারণ। আর সেই ঝুঁকি কমাতেই এবার অভিনব সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার—প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য ১,২৭০ কেজি হাড়ছাড়া চিকেন কিনছে কেন্দ্র।
🚨 Delhi to use 1,270 kg of boneless chicken to lure black kites away from aircraft routes during the Republic Day parade. pic.twitter.com/J4rEMVpFEP
— Indian Tech & Infra (@IndianTechGuide) January 10, 2026
এই বিপুল পরিমাণ চিকেন কোনও ভোজসভা বা সরকারি অনুষ্ঠানের খাবারের জন্য নয়। বরং এটি ব্যবহার করা হবে দিল্লির আকাশে ওড়া ‘ব্ল্যাক কাইট’ বা চিল পাখিদের নজর ঘোরাতে। দিল্লির বন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ও তার আগের কয়েক দিনে এই মাংস ব্যবহার করে চিলদের রাজপথ ও তার আশপাশের এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে।
কেন এত চিন্তা চিল পাখি নিয়ে?
দিল্লি শহরে ব্ল্যাক কাইট বা চিলের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এরা মূলত আবর্জনা ও মাংসজাত খাবারের উপর নির্ভরশীল। শহরের নানা প্রান্তে খাবারের খোঁজে এরা উড়ে বেড়ায়। সমস্যা হল, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালীন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ মিটার উচ্চতায় উড়ে যায়। এই উচ্চতায় পাখির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ বা ‘বার্ড স্ট্রাইক’-এর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বড় চিল যদি জেট ইঞ্জিনে ঢুকে পড়ে, তাহলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
চিকেন দিয়ে কীভাবে কাজ হবে পরিকল্পনা?
দিল্লির বন দফতর জানিয়েছে, এটি কোনও নতুন পদ্ধতি নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাজপথ থেকে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এই হাড়ছাড়া চিকেন রাখা হয়। ফলে চিল পাখিরা স্বাভাবিকভাবেই খাবারের খোঁজে সেই এলাকায় জমায়েত হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলের আকাশপথ অনেকটাই ফাঁকা থাকে।
এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ অহিংস। কোনও পাখিকে মারা বা আহত করা হয় না। শুধু তাদের খাবারের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখা হয়। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, “আগের বছরগুলিতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ফ্লাইপাস্ট চলাকালীন পাখির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘চিকেন-কাইট’ মিম
এই খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মিমের বন্যা। কেউ কেউ ইন্ডিয়া গেটের সামনে ভাজা চিকেনের ছবি দিয়ে চিলকে আকৃষ্ট করার কল্পচিত্র বানিয়েছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন দেশের অর্থনীতির এই সময়ে এত বিপুল চিকেন কেনা কি যুক্তিযুক্ত? তবে প্রশাসনের বক্তব্য স্পষ্ট এটি নিরাপত্তার প্রশ্ন। একটি ছোট দুর্ঘটনাও আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সেখানে ১,২৭০ কেজি চিকেনের খরচ নেহাতই সামান্য।
নিরাপত্তা বনাম কৌতুক
বিষয়টি অনেকের কাছে মজার বা অদ্ভুত মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পাখির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ রুখতে উন্নত দেশগুলিও নানা ধরনের ‘ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট’ কৌশল ব্যবহার করে। প্রজাতন্ত্র দিবস মানে শুধু উৎসব নয়, দেশের সামরিক শক্তি ও শৃঙ্খলার প্রদর্শন।
সেই অনুষ্ঠানে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। তাই ২৬ জানুয়ারির আগে দিল্লির আকাশে যত চিলই উড়ুক, রাজপথের উপর দিয়ে ফাইটার জেট ওড়ার পথে তারা থাকবে নিরাপদ দূরত্বে চিকেনের টানেই।
