ড্রোন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র! বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষায় ‘সুদর্শন চক্র’ গড়ছে ভারত

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং…

mission-sudarshan-chakra-india-multi-layer-air-defence-system

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defence) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। সেই পথেই এগোচ্ছে ভারতও।

অপারেশন সিঁদুর-এর পর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra) নামে একটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির ঘোষণা করেন। লক্ষ্য, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে উচ্চ আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত একাধিক স্তরে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা।

Advertisements

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা আর শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নয়, এটি এখন কৌশলগত শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অপারেশন সিঁদুরে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের আকাশপথে হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের পাল্টা আঘাতও কার্যকর হয়েছিল।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে ‘সুদর্শন চক্র’?

ভারতের এই নতুন প্রতিরক্ষা বলয় তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়াবে।
প্রথমত, সেন্সর নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে থাকবে অত্যাধুনিক রাডার ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর, যা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু দ্রুত শনাক্ত করবে।
দ্বিতীয়ত, কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন, কম্পিউটারস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স (C4I) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য একত্রিত করে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (IACCS)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, অস্ত্র ব্যবস্থা, যার মধ্যে থাকবে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM), এয়ার ডিফেন্স গান, লেজার অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তি।

দেশীয় প্রযুক্তিতে একের পর এক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক দেশীয় ও যৌথভাবে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে বা পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
• ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স (BMD) কর্মসূচির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে DRDO। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করার সক্ষমতাও দেখানো হয়েছে।
• প্রজেক্ট কুশা (Kusha SAM) ভারতের নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা রুশ S-400-এর সমতুল্য হিসেবে তৈরি হচ্ছে। এর তিনটি সংস্করণের পাল্লা হবে ১৫০ কিমি, ২৫০ কিমি এবং ৩৫০ কিমি। এটি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
• MR-SAM, যা ভারত ও ইজরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি, ইতিমধ্যেই ভারতের অন্যতম প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর পাল্লা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
• দেশীয় আকাশ মিসাইল ব্যবস্থার নতুন সংস্করণ Akash-1S, Akash Prime এবং উন্নত Akash-NG-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। Akash-NG-এর পাল্লা প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হবে।
• খুব স্বল্প দূরত্বের হুমকি মোকাবিলার জন্য DRDO VSHORADS (Very Short Range Air Defence System) তৈরি করছে, যা বর্তমানে ব্যবহৃত রুশ Igla ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হবে।

ড্রোন মোকাবিলায় লেজার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ

মিসাইলের পাশাপাশি ভারত এখন ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র বা লেজার প্রযুক্তির ওপরও জোর দিচ্ছে। DRDO ইতিমধ্যেই ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার লেজার অস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করেছে, যা উড়ন্ত ড্রোন বা অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।
এছাড়া Akash Tarang-এর মতো ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যাম করে হুমকি নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

এয়ার ডিফেন্স গানও ফের গুরুত্বপূর্ণ

একসময় পুরনো বলে মনে করা হলেও, ড্রোন যুদ্ধের যুগে L-70-এর মতো এয়ার ডিফেন্স গান আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় এগুলি এখন স্বল্প খরচে ড্রোন ও ড্রোনের ঝাঁক (Swarm Drones) ধ্বংস করতে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। রাডার, সেন্সর, মিসাইল, লেজার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং কমান্ড সিস্টেমকে একত্রিত করেই তৈরি হবে ভারতের বহুস্তরীয় ‘সুদর্শন চক্র’। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ কার্যকর হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে বাধ্য করবে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচিন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের