গেরুয়া রাজ্যে কোরবানির ছাগল রাখার খোয়াড় ভাঙল হিন্দুরা! ছড়াল সাম্প্রদায়িক হিংসা

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের মীরা রোডের পুনম ক্লাস্টার সোসাইটিতে বকরি ঈদকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে (Mira Road)। স্থানীয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বকরি ঈদের…

mira-road-bakrid-goat-shed-controversy-maharashtra

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের মীরা রোডের পুনম ক্লাস্টার সোসাইটিতে বকরি ঈদকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে (Mira Road)। স্থানীয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বকরি ঈদের কোরবানির ছাগল রাখার জন্য তৈরি করা অস্থায়ী খোঁয়াড়টি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে হাতাহাতি ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে, যা পুরো সোসাইটিতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সোসাইটির একাংশে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য বকরি ঈদের কোরবানির জন্য ছাগল রাখার উদ্দেশ্যে একটি অস্থায়ী শেড বানিয়ে ফেলেন। পাশেই বসবাসকারী একটি মারাঠা পরিবারসহ অন্যান্য হিন্দু বাসিন্দারা প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ছাগলগুলোর দুর্গন্ধে পুরো এলাকা দূষিত হয়ে উঠছে, বিশেষ করে পাশের বাড়ির বাসিন্দারা চরম সমস্যায় পড়েছেন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন পোস্ট, মাশুল গুনতে হল রাজেশকে

দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাঁরা স্থানীয় পুরসভায় অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই শেডটি ভেঙে দেয়।কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, রাতের অন্ধকারে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ভাঙা শেডটি আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সোসাইটির প্রায় ৬০ শতাংশ হিন্দু বাসিন্দা এর বিরোধিতা করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সময় মুসলিম যুবকদের একাংশ হিন্দু পক্ষের এক কার্যকর্তার উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর সোসাইটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।হিন্দু বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “সোসাইটির নিয়ম মেনে যদি ছাগল আনা হয়, তাহলে আমরাও প্রতিবাদে শূকর নিয়ে আসব।”

এই ধরনের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, সোসাইটির ভিতরে এমন কোনো কার্যকলাপ করা উচিত নয় যা অন্যদের অসুবিধায় ফেলে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে।অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য জানিয়েছেন, বকরি ঈদ তাঁদের ধর্মীয় রীতি। কোরবানির জন্য ছাগল রাখা তাঁদের ঐতিহ্য। তাঁরা বলছেন, শেডটি অস্থায়ী ছিল এবং কোনো স্থায়ী ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে পুরসভার অভিযান ও পরবর্তী ঘটনায় তাঁরাও ক্ষুব্ধ।