নয়াদিল্লি: আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধের জেরে কি এবার ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল দেখা দিতে চলেছে? যুদ্ধের খবরে তৈরি হওয়া আতঙ্কের জেরে ইতিমধ্যেই দিল্লি (NCR), উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাস এজেন্সিগুলির বাইরে ফাঁকা সিলিন্ডার হাতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও কোথাও চড়া দামে কালোবাজারিরও অভিযোগ উঠছে। তবে কি সত্যিই দেশে গ্যাসের ভাঁড়ার ফুরোচ্ছে?
আদতেই কি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে?
কেন্দ্রীয় সরকার এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে এলপিজি-র কোনও দেশব্যাপী ঘাটতি নেই। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এক্স (X) হ্যান্ডেলে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, “দেশে জ্বালানির কোনও অভাব নেই, তাই গ্রাহকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।” সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য ভারতের কাছে ২৫ থেকে ৩০ দিনের এলপিজি এবং ৪০-৪৫ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত (Strategic reserves) রয়েছে।
আতঙ্ক, হাহাকার ও কালোবাজারি LPG shortage India panic buying
সরকার আশ্বস্ত করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বুক করার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে গত ৫-৬ দিনে এলপিজি বুকিং ১৫-২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে এক গৃহবধূকে কালোবাজার থেকে ১৫০০ টাকা দিয়ে গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ। নয়ডার সেক্টর ২২, উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর, লখিমপুর খেরি থেকে শুরু করে রাঁচি, হায়দরাবাদ, সর্বত্র গ্যাস এজেন্সির বাইরে মানুষের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।
সরকারের নয়া পদক্ষেপ ও নিয়ম বদল
ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজি-র বড় অংশ আমদানি করে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ হয়ে। যুদ্ধের জেরে এই পথে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আতঙ্কের সূত্রপাত। মজুতদারি রুখতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তেল সংস্থাগুলি৷
সিঙ্গল সিলিন্ডার গ্রাহকদের জন্য দুটি বুকিংয়ের মাঝে লক-ইন পিরিয়ড ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১ দিন করা হয়েছে। জোড়া সিলিন্ডার থাকলে তা ৩০ দিন করা হয়েছে। সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা (দিল্লিতে বর্তমান দাম ৯১৩ টাকা) এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক এই বুকিংয়ের হিড়িক, ডিস্ট্রিবিউটর স্তরে তৈরি হওয়া কিছু সমস্যা এবং একাংশের কালোবাজারির চেষ্টাতেই বাজারে এই কৃত্রিম আকাল ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে জাতীয় স্তরে সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই।



