জঙ্গি ষড়যন্ত্র মামলায় লরেন্স গ্যাং র আরও এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট NIA র

lawrence-bishnoi-bki-terror-case-chargesheet

দেশজুড়ে জঙ্গি ও গ্যাংস্টার চক্রের যোগসাজশ ভাঙতে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। (Lawrence Bishnoi)সোমবার এনআইএ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (BKI)-এর জঙ্গি ষড়যন্ত্র মামলায় আরও এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে। এই নিয়ে মামলায় মোট ২৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করল তদন্তকারী সংস্থা।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অরিজিৎ কুমার ওরফে অজিতের বিরুদ্ধে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে অবস্থিত বিশেষ এনআইএ আদালতে ষষ্ঠ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-এর একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের আগস্ট মাসে। প্রথমে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল একটি মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ।

   

আরও দেখুনঃ NEET প্রশ্নপত্র কাণ্ডে জড়িয়ে গেরুয়া রাজ্যের ১০০ কোটির ইনস্টিটিউট!

তদন্তে উঠে আসে, কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বব্বর খালসা একসঙ্গে মিলে ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। এনআইএ-র তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত অরিজিৎ কুমার এই চক্রের সক্রিয় সহযোগী ছিল। অভিযোগ, সে অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের ভারতে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ চালাতে সাহায্য করত। শুধু তাই নয়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যাতে তারা সহজে দেশ ছাড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাও করত।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এনআইএ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ভুয়ো নথি ব্যবহার করে পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করত। সেই জাল নথি ব্যবহার করেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সচিন বিষ্ণোই এবং আরও কয়েকজন গ্যাং সদস্য দেশ থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এই ভুয়ো নথির নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

বর্তমানে এই মামলায় মোট ২০ জন অভিযুক্ত গ্রেফতার রয়েছে। তবে এখনও তিনজন পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি শুধুমাত্র গ্যাংস্টার চক্র নয়, বরং জঙ্গি সংগঠন এবং অপরাধ জগতের ভয়ঙ্কর যোগসাজশের উদাহরণ। দেশের নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই এই নেটওয়ার্ক কাজ করছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে গ্যাংস্টার এবং জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। অপরাধ জগতের অর্থ, অস্ত্র এবং নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের কার্যকলাপ আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। ফলে এই ধরনের মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এনআইএ জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে এবং পুরো জঙ্গি-গ্যাংস্টার নেক্সাস ভেঙে ফেলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা মহলের মতে, এই মামলার তদন্ত আগামী দিনে আরও বড় তথ্য সামনে আনতে পারে। কারণ শুধু অপরাধ জগত নয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জাল নথি চক্র এবং সংগঠিত সন্ত্রাস সবকিছুর যোগ এই মামলায় ধরা পড়ছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এখন মরিয়া তদন্তকারী সংস্থা।